ত্বকী হত্যা: রিফাত ওসমানকে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হাজির হতে নির্দেশ
নারায়ণগঞ্জের মেধাবী কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলায় অভিযুক্ত রিফাত বিন ওসমানকে তার আইনজীবীসহ আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এ মামলার ১০৬তম ধার্য তারিখে অভিযুক্তকে তদন্তে সহযোগিতা করার জন্য এ আদেশ দেন আদালত।
এর আগে অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নুরুল হুদা চৌধুরীর আদালতে এ মামলার শুনানি হয়। আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত রিফাত বিন ওসমানকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।
শুনানি শেষে আদালত আগামী ১ নভেম্বর পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন বলেও জানান আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ। তিনি বলেন, রিফাত বিন ওসমানকে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তদন্তে সহযোগিতার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রিফাত বিন ওসমান এ মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত আজমেরী ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। আজমেরী ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য একেএম নাসিম ওসমানের ছেলে। তার দুই চাচা একেএম শামীম ওসমান ও একেএম সেলিম ওসমানও সংসদ সদস্য ছিলেন।
২০১৩ সালের ৬ মার্চ শহরের শায়েস্তা খাঁ সড়কের বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন ১৭ বছর বয়সী কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দুইদিন পর ৮ মার্চ শহরের ৫ নম্বর খেয়াঘাটে শীতলক্ষ্যা নদীর শাখা কুমুদিনী খাল থেকে উদ্ধার করা হয় ত্বকীর বিভৎস মরদেহ।
এই ঘটনায় সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন ত্বকীর পিতা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি। তার অভিযোগ, ওসমান পরিবারের সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় তার ছেলেকে অপহরণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ তাদের সহযোগীরা জড়িত ছিলেন বলে ওই সময় জেলা পুলিশকে লিখিত অভিযোগও দিয়েছিলেন রাব্বি।
এ মামলায় রিফাত বিন ওসমান গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে জামিনে আছেন। মঙ্গলবার শুনানির দিন রিফাত ছাড়াও শেখ তায়েব উদ্দিন জ্যাকি, ইউসুফ হোসেন লিটন, কাজল হাওলাদার, সাফায়েত হোসেন শিপন, ইয়ার মোহাম্মদ পারভেজও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে আজমেরী ওসমানের গাড়িচালক জামশেদ শেখ কারাগার থেকে হাজিরা দিয়েছেন।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট প্রদীপ ঘোষ বাবু বলেন, দীর্ঘ বছর পেরিয়ে গেলেও তদন্তকারী সংস্থা র্যাব এখন পর্যন্ত এই মামলার তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করতে পারেনি। আদালতের বেঁধে দেওয়া ৩০ দিনের সময় তিন দফায় বাড়িয়ে নেওয়ার পরও অভিযোগপত্র দিতে ব্যর্থ হয়েছে সংস্থাটি।
চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় বেঁধে দিয়েছিলেন আদালত। যদিও পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা আবেদন করে এই সময় ৩ দফায় বাড়িয়ে নেয়। গত ১ জুলাই তৃতীয় দফায় সময় চাইলে আদালত ১২ আগস্ট পরবর্তী তারিখ দেন। কিন্তু এদিনও প্রতিবেদন দিতে পারেনি র্যাব।
এই মামলার তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতায় ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ত্বকীর পরিবারের সদস্যরা।





































