১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২১:২৯, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ২১:৩৫, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জমি দখল: সার্ভেয়ারের সামনে মালিককে মারধর করলেন বিএনপির ইকবাল

জমি দখল: সার্ভেয়ারের সামনে মালিককে মারধর করলেন বিএনপির ইকবাল

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সরকারি ভূমি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে জোরপূর্বক জমি দখল ও এক ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে নাসিকের সাবেক ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে।

এ সময় বাধা দিতে গেলে ওই ব্যক্তির স্ত্রীকেও মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফতুল্লার রঘুনাথপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় ফতুল্লা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের কর্মকর্তা মিল্টন রায় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, ভূমি কর্মকর্তার সামনেই ভুক্তভোগীকে বেধড়ক মারধর করতে। কেউ যাতে ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে না পারে, সেজন্য উপস্থিত অনেকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া নেন বিএনপি নেতা ইকবাল।

এ বিষয়ে একাধিকবার ফতুল্লা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের কর্মকর্তা মিল্টন রায়কে কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কাশেম মোল্লার স্ত্রী কুহিনুর আক্তার পাপিয়া বাদী হয়ে ইকবাল হোসেন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে কুহিনুর আক্তার পাপিয়া বলেন, তার স্বামী ক্রয়সূত্রে তফসিলভুক্ত সম্পত্তির মালিক। গত প্রায় ১০ বছর ধরে খাজনা, বিদ্যুৎ বিলসহ অন্যান্য খরচ পরিশোধ করে সেখানে টিনশেড বাড়ি নির্মাণ করে তারা ভোগদখলে ছিলেন। ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যে প্রায় এক বছর আগে টিনশেড বাড়িটি ভেঙে জায়গাটি টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, এরপর ইকবাল ওই জমিতে মিথ্যা ও ভুয়া মালিকানা দাবি করে রাতে সাইনবোর্ড স্থাপন করেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিচার-শালিস হলেও রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয় এবং জমিটি বেদখলের চেষ্টা করে।

এ ঘটনায়  কাশেম মোল্লা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় মামলা করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে। এবং আদালত উভয় পক্ষের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

কুহিনুর আক্তার পাপিয়া অভিযোগে আরও বলেন, বুধবার তফসিল অফিসের কর্মকর্তাদের সরেজমিন তদন্তের তারিখ থাকায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে তিনি ও তার স্বামী দুপুর দিকে রঘুনাথপুরের ওই জমিতে যান। ভূমি কার্যালয়ের কর্মকর্তারা মিলটন রায় তদন্ত করার সময় ইকবাল হোসেন ও তার সহযোগীরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন।

একপর্যায়ে তারা কাশেম মোল্লার ওপর হামলা চালিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। তাকে ছাড়াতে গেলে কুহিনুরকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন। পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার পর লাশ গুম করার হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

এদিকে চলতি বছরের ৪ জুন বিএনপি নেতা ইকবালের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জে এক ব্যবসায়ীর জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলনও করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও চৌরাঙ্গি গ্রুপের স্বত্বাধিকারী কাজী আব্দুস সাত্তার।

এর আগেও তার বিরুদ্ধে, ২৪ সালে বাস চালকের সঙ্গে তর্কের জের ধরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের আসিয়ান পরিবহনের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছিল। এরপর ১২ ডিসেম্বর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞাপ্তিতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাংবাদিক মিনহাজ আমানকে মারধর ও লাঞ্ছিত করায় ইকবালকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে যদিও জাতীয় নির্বাচনের সময় সেটি তুলে নেওয়া হয়।

জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে কাশেম মোল্লা বলেন, ‘আমার তিন কন্যা, কোনো উপার্জনক্ষম ছেলে নেই। এই জমিটিই আমার শেষ সম্বল। আমি চাই প্রশাসন জমির সব কাগজপত্র যাচাই করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করুক।’

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক শামসুল হক সরদার বলেন, গতরাতে একটি অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর ইকবাল হোসেনের মুঠোফোনের নম্বরে কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়