১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৯:১১, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৯:১২, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মুকুলপুত্র রেজানুরের স্ট্যাটাস, ‘মেরুদণ্ড সোজা রেখেছি, বাঁকা করিনি’

মুকুলপুত্র রেজানুরের স্ট্যাটাস, ‘মেরুদণ্ড সোজা রেখেছি, বাঁকা করিনি’

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান মুকুলকে নিয়ে ফেসবুকে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন তার ছেলে রেজানুর রহমান। স্ট্যাটাসে তিনি মুকুলের রাজনৈতিক ভূমিকা তুলে ধরার পাশাপাশি কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার উদ্দেশে নানা অভিযোগ ও সমালোচনা করেন।

রেজানুর রহমান বিএনপি অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের সহ দপ্তর সম্পাদক হিসেবে রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার সফটঅপরা প্রতিষ্ঠানে ডেটা সাইন্টিস্ট হিসেবে কর্মরত এবং অস্ট্রেলিয়ান গ্রিন্সের পার্টি মেম্বার বলে তার দেওয়া পরিচয়ে উল্লেখ রয়েছে।

তার ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো—

প্রিয় মহামান্য ও মাননীয়,
আপনাদের কিছু কথা বলি আজ।
কালো হাতটা কার আপনারা নিজেদের হাতের দিকে তাকালেই বুঝতে পারবেন।
এটা সেই কালো হাত, যে হাত দিয়ে সেলিম ওসমানের হাত ধরে স্টেজ থেকে গাড়ি পর্যন্ত তুলে দিয়েছেন।
এটা সেই কালো হাত, যে হাত দিয়ে তালি দিতে দিতে মিছিল নিয়ে দীপু মনির স্টেজে উঠে বডিগার্ডের মতো দীপু মনির পেছনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছেন।
তো এখন বলবেন, আপনি জনপ্রতিনিধি ছিলেন।
মাননীয়, ১০ বছর তো মুকুল সাহেবও জনগণের ভোটে নির্বাচিত ছিলেন। তাহলে আপনারটা দালালি না, ওনারটা দালালি?
মুকুল সাহেব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য যতটুক দরকার ছিল ততটুকুই করেছেন এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন জীবিত ছিলেন তখন তাকে প্রশ্ন করেছিলেন মুকুল সাহেব যে ম্যাডাম আমরা তো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি আমরা কি করব ম্যাডাম বলেছিলেন তোমরা তোমাদের জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করার জন্য যা করা দরকার করবে।
দশ বছর যখন তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন একটা কেউ বলতে পারবে না তিনি দুর্নীতির সাথে জড়িত এবং কোন সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে নিজের সম্পদ বৃদ্ধি করেছেন। উল্টো তার পরিবারের সদস্যদের ভবিষ্যতের চিন্তা না করে সকল সম্পদ বিক্রি করে মুকুল সাহেব রাজনীতি করেছেন।
দলের নেতাকর্মীদের বট গাছের মত ছায়া দিয়েছেন আগলে রেখেছেন।
মাননীয় আপনি এখন ওসমান পরিবারের সকল গুন্ডাদের সেলটার দিয়ে নিজের পেটোয়াবাহিনী হিসেবে ব্যবহার করছেন।
যেখানে যারা আন্দোলন সংগ্রামে নিরীহ নেতাকর্মী ছিল তারা সকলে বঞ্চিত।
আচ্ছা, এবার আসি পাশ-ফেলের কথায়।
মাননীয় ও মহামান্য, আপনারা দুইজনেই কতবার যানো ফেল করেছিলেন? তারপর কি জনগণ আপনাদের আবার ভোট দেয়নি?
রাজনীতি করেন, অথচ এই সাধারণ বিষয়টুকুও বোঝেন না?
আচ্ছা, এবার আসি মোনাফেকির কথায়।

মাননীয়, আপনাকে যারা চাটতে চাটতে আজ অলী-আউলিয়ার পর্যায়ে নিয়ে গেছেন, তাদের মধ্যে ৯০ শতাংশ মানুষকে আমি নাম ধরে বলতে পারব তারা চায়নি আপনি পাশ করেন। আজ আপনি তাদের গাড়িতে নিয়ে ঘুরেন।

মুকুল সাহেব আমাকে যতটা আদর করে নিজের সন্তান হিসেবে, ঠিক তেমন আপনাকে ও করেছেন যার প্রমান ঠিক সেই নির্বাচনে আপনার জন্য সরাসরি সকলের সাথে যুদ্ধ করে আপনাকে জিতিয়ে নিয়ে এনেছিলেন।

আপনি আমাকে একটা কথা বলেছিলেন তোমাদের জন্মের আগে তোমার বাবা আমাকে কোলে নিয়েছে তার উপর আমার অধিকার তোমাদের চেয়ে বেশি। আমরা সারা জীবন এই শিক্ষাই পেয়ে এসেছি কিন্তু আপনি কোনদিন আমাদের আপন করে ভাবেননি।

বিনিময়ে আপনারা কী করেছেন?

তার বহিস্কারাদেশ যাতে না উঠে সেজন্য ষড়যন্ত্র করেছেন সর্বদিক থেকে তার ক্ষতি করার চেষ্টা করেছেন।
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একবার নিজেকে প্রশ্ন করেন, মাননীয়।
যদি মানুষ হয়ে থাকেন, আপনার বিবেক আপনাকে উত্তর দিয়ে দেবে।
মহামান্য মুকুল সাহেব আপনাকে পিতৃতুল্য সম্মান দিয়েছেন কোনদিনই আপনাকে নিজের আপন ভাইয়ের চেয়ে কম দৃষ্টিতে দেখেন নাই এবং আপনার জন্য যা করা দরকার তাই করেছেন আপনার হুকুম পালন করেছেন এবং আপনি তার সরলতার সুযোগ নিয়েছেন সব সময়। মহামান্য সাহেব, যখনই কমিটি আপনার নিজের স্বার্থের বাইরে গেছে, তখনই মুকুল সাহেবকে জিম্মি করে তার কাঁধে বন্দুক রেখে পাল্টা কমিটি দিয়ে নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি নষ্ট করেছেন। স্বার্থ হাসিল হয়েছে আপনার কিন্তু দলের কাছে খারাপ হয়েছে মুকুল সাহেব।
যখনই আপনার মনের মতো দল আপনাকে কিছু দেয়নি, তখনই বিরোধিতা করেছেন।
এই ১৭ বছরে আপনার অবদান বেশি, নাকি মুকুল সাহেবের তা সবাই জানে।
মুকুল সাহেব এই দলের জন্য নিজের সবকিছু শেষ করেছেন।
নেতা-কর্মীদের জন্য আপনার কী অবদান আর মুকুল সাহেবের কী অবদান তা সবাই জানে। নতুন করে বলার কিছু নেই।
আর মাননীয়, আপনি যাদের সকাল-বিকেল গালি দিয়েছেন, এখন তাদেরই আপনার কোলে বসিয়েছেন আজ।
মানে, লজ্জা বলতেও তো কিছু একটা আছে, নাকি?
মুকুল সাহেবকে আপনারা আগে ব্যবহার করেছেন নিজেদের স্বার্থের জন্য। পরে যখন দেখলেন তিনি জনপ্রিয় হচ্ছেন, তখন থেকেই তাকে প্রতিযোগী হিসেবে দেখা শুরু করেছেন।
কিন্তু মুকুল সাহেব এত কিছুর পরও কোনোদিন ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়ার চেষ্টা করেননি।
আর কে বেঈমান, কে মোনাফেক সেই হিসাব করলে আপনারা দুজনই উপরের দিকেই থাকবেন প্রিয় মাননীয় এবং মহামান্য।
আর যারা এখন আপনাকে অলী-আউলিয়া মনে করে আকাশে উঠাচ্ছেন, তাদের অবশ্য আমি কোনো দোষ দেখি না।
একেকজনের ৪-৫টা সংসার। যেখানে চারটা পয়সা বেশি পাবে, সেখানেই তো যাবে।
স্বাভাবিক। এটা আমি খারাপভাবে দেখি না। নিজের পরিবারের পেট পালনের জন্য মানুষ কত কিছুই না করে।
শুনুন মাননীয়, একটা কথা বলি
দলটা শুধু আপনার একার নয়।
এই বন্দরে ধানের শীষের জন্য মুকুল সাহেব কী করেছেন, তা সবাই জানে।
আর যদি মনে করেন মুকুল সাহেবের সব শেষ তাহলে আপনি বোকার রাজ্যে আছেন।
কয়েকটা সাময়িক প্রতিকূলতা আছে। কিন্তু এটা চিরস্থায়ী নয়।
আজকে হোক, কালকে হোক সব পরিবর্তন হবে, ইনশাআল্লাহ।
আজই এই বিষয়ে আমার প্রথম এবং শেষ বক্তব্য।
আল্লাহ আপনাদের সহায় হয়েছেন সুযোগ দিয়েছেন। আপনারা যা খুশি বলুন, আরও বলতে থাকুন।
আমরা শুধু শুনে যাব।
আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়ার কর্মী আমরা। তারুণ্যের অহংকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কর্মী আমরা।
সব করব, কিন্তু হার মানব না।
যত খারাপ সময়ই আসুক, অন্তত যদি কিছু না-ও করতে পারি, মরার আগে নিজেকে বলতে পারব মেরুদণ্ড সোজা করে ছিলাম, বাঁকা করিনি।
আপনার সঙ্গে, মাননীয়, একদিন সামনাসামনি কথা হবে।
কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে সব পাওনা শোধ করে দেব ইনশাআল্লাহ।
হোক সেটা আজ, কাল, অথবা ৫ বছর পর দেখা আমাদের হবেই হবে।
সেই পর্যন্ত ভালো থাকবেন।
সুস্থ থাকবেন।
মহামান্যকে আমার সালাম দেবেন।
আর মনে রাখবেন এটাই শেষ নয়।
আল্লাহ হাফেজ।
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়