জরায়ু ক্যান্সার রোধে এইচপিভি টিকার প্রচারণায় জোর
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) এলাকায় জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকা কার্যক্রমে লক্ষ্যমাত্রার ৯৪ শতাংশ কিশোরীকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এ টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ কার্যক্রম সফল করতে শিক্ষক, ইমামসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে প্রচারণায় সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রুটিন টিকাদান কর্মসূচিতে এইচপিভি টিকা কার্যক্রম সংযুক্ত করার বিষয়ে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অ্যাডভোকেসি সভায় এ আহ্বান জানানো হয়।
নাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নূর কুতুবুল আলমের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন এস এম সাখাওয়াত হোসেন। সভা সঞ্চালনা করেন নাসিকের মেডিকেল অফিসার ডা. নাফিয়া ইসলাম।
সভায় সাবেক নারী কাউন্সিলর দিলারা মাসুদ ময়না ও আফসানা আফরোজ বিভা, ইউনিসেফের ইপিআই স্পেশালিস্ট রিশান্তা মন্ডল, ডব্লিউএইচও প্রতিনিধি ডা. মোরশেদ, নাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোস্তফা আলীসহ শিক্ষক, ইমাম ও স্বাস্থ্যকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ডা. নাফিয়া ইসলাম জানান, জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায় এইচপিভি টিকা কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এতে লক্ষ্যমাত্রার ৯৪ শতাংশ কিশোরীকে টিকা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এ টিকা দেওয়া হবে। এ জন্য ব্যাপক প্রচারণার প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
নাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নূর কুতুবুল আলম বলেন, ক্যান্সারে আক্রান্ত ব্যক্তি ও তার পরিবারের ওপর এর ব্যাপক প্রভাব পড়ে। সরকারি উদ্যোগে বিনামূল্যে এইচপিভি টিকার যে সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে কিশোরীদের জরায়ুমুখের ক্যান্সার থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব। এজন্য শিক্ষক, ইমামসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে টিকা সম্পর্কে মানুষকে জানাতে হবে।
ইমামদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মসজিদ শুধু ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র নয়, বিভিন্ন সামাজিক বিষয়ে মানুষকে সচেতন করারও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। তাই ইমামদের উচিত মুসল্লিদের এইচপিভি টিকা সম্পর্কে জানানো এবং তাদের পরিবারকে টিকা নিতে উৎসাহিত করা।
নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন,বাজারে এইচপিভি টিকা পাওয়া গেলেও তা কিনতে অনেক টাকা খরচ হয়। সরকার কিশোরীদের জন্য বিনামূল্যে টিকার ব্যবস্থা করেছে। নাসিক এলাকায় ইতোমধ্যে ৩২টি স্কুলে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। তবে আরও অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, তাই কার্যক্রমটি সফল করতে ব্যাপক প্রচারণা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন কর্মসূচিতে মানুষের সচেতনতা বাড়াতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধেও নাসিকের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং এ বিষয়ে নগরবাসীকেও সচেতন থাকতে হবে।





































