আলীরটেক-বক্তাবলী সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই চেয়ে মাধবী মার্মার ডিও লেটার
নারায়ণগঞ্জের আলীরটেকের ডিক্রিরচর-বক্তাবলী ঘাটে নদীর ওপর সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় সমীক্ষা ও প্রকল্প প্রণয়নের উদ্যোগ নিতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে ডিও লেটার দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সার্বিক কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাধবী মার্মা।
গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিমন্ত্রীর কাছে তিনি এ ডিও লেটার দেন।
ডিও লেটারে বলা হয়েছে, আলীরটেকের ডিক্রিরচর ঘাটে অথবা অন্য কোনো সুবিধাজনক স্থানে নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করা হলে আলীরটেক ও বক্তাবলী ইউনিয়নের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের মূল অংশের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যা অনেকাংশে নিরসনের পাশাপাশি জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে একটি বিকল্প সড়ক করিডোর গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন ডিক্রিরচর-মীরকাদিম সড়কের (রোড আইডি: ৩৬৭৫৮২০০৫) আলীরটেক ডিক্রিরচর ঘাটে সেতুটি নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
মাধবী মার্মার ডিও লেটারে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রস্তাবিত সেতু নির্মিত হলে পঞ্চবটি-মুক্তারপুর এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মা সেতু এক্সপ্রেসওয়ে ও তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর মধ্যে নতুন একটি সংযোগ তৈরি হতে পারে। এর ফলে পদ্মা সেতু হয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে চট্টগ্রামমুখী আন্তঃআঞ্চলিক যানবাহন ঢাকায় প্রবেশ না করে বিকল্প পথে চলাচলের সুযোগ পেতে পারে। এতে রাজধানীর ওপর আন্তঃআঞ্চলিক যানবাহনের চাপ কমানোর পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন সহজ হতে পারে।
সেতুটি নির্মিত হলে বক্তাবলী ও আলীরটেকের মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবায় যাতায়াত সহজ হবে বলেও ডিও লেটারে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও উন্নত হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
কৃষিপণ্যের পরিবহন ও বাজারজাতকরণেও সেতুটি ভূমিকা রাখতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বক্তাবলী, আলীরটেকসহ আশপাশের কৃষি অঞ্চল থেকে উৎপাদিত পণ্য দ্রুত নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ও দেশের অন্যান্য বাজারে নেওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে কৃষি উপকরণ, সার ও বীজ কৃষকদের কাছে পৌঁছানো সহজ হবে।
শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও সেতুটিকে বিকল্প যোগাযোগ অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে। শিল্পকারখানার কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য পরিবহন সহজ হলে সরবরাহব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ার পাশাপাশি নতুন শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ডিও লেটারে আরও বলা হয়, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা হলে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবাগুলো দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকায় দ্রুত পৌঁছাতে পারবে। দুর্যোগকালে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনাও সহজ হবে।
তবে ডিও লেটারে প্রস্তাবিত সেতুটি শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর নির্মাণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আলীরটেকের ডিক্রিরচর ও বক্তাবলীর মাঝ দিয়ে ধলেশ্বরী নদী প্রবাহিত হওয়ায় নদীর নামের উল্লেখে এ অসঙ্গতি রয়েছে।
বৃহত্তর জনস্বার্থ ও আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয় বিবেচনা করে সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় সমীক্ষা এবং পরবর্তী প্রকল্প প্রণয়নের উদ্যোগ নিতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে অনুরোধ জানিয়েছেন মাধবী মার্মা।
ডিও লেটারের অনুলিপি স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলীর কাছে দেওয়া হয়েছে।





































