০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২০:৪৩, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শুভ খুনের নেপথ্যে কি ফতে-অনিকের বাসায় ডিবির অভিযান?

শুভ খুনের নেপথ্যে কি ফতে-অনিকের বাসায় ডিবির অভিযান?
ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ায় শুভ চন্দ্র দাস (৩০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং আরেকজনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় মাদক ব্যবসায় অভিযুক্ত অনিক ও সুমনের নাম উঠে এসেছে। তবে সূত্রের দাবি, শুভকে হত্যার পেছনে ছিল ডিবির সোর্স হিসেবে তার পরিচিতি এবং মাদক ও অস্ত্রের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানে তার ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ।

সূত্র জানায়, শুভর ডিবি সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ ভালো ছিল। সে ডিবির সোর্স হিসেবেও কাজ করতেন বলে স্থানীয়রা জানতেন। সম্প্রতি আমলাপাড়ায় মাদকসহ একাধিক মামলার আসামি ফাতেমা বেগম ওরফে ফতে ও তার ছেলে অনিকের বাড়িতে ডিবির অভিযান পরিচালিত হয়। ওই অভিযানে ১ হাজার ৫০০ গ্রাম গাঁজা, পাঁচটি দেশীয় অস্ত্র ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। সূত্রের দাবি, ওই অভিযানের জন্য শুভকে দায়ী মনে করেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার হকার্স মার্কেটের পেছনে দুর্গামলের সামনে সড়ক থেকে শুভ চন্দ্র দাসের গুলিবিদ্ধ ও চাকুর আঘাতে রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি সদর থানার গলাচিপা এলাকার বাসিন্দা।

এ ঘটনায় শুভর বাবা বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাসিনুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ছায়া তদন্ত শুরু করে।

ডিবি জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে তদন্ত চালিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে জানা যায়, অনিক ও সুমন শুভকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেটের বিনিময়ে শুভর সহযোগী সোহানকে দিয়ে তাকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনা হয়।

পরে অনিক ও অহিদের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল শুভকে ঘিরে ফেলে। এ সময় অনিক ও অহিদ শুভকে গুলি করেন এবং অন্য সহযোগীরা চাকু দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন আমলাপাড়া মাদ্রাসাপাড়া এলাকার কালু মিয়ার ছেলে মো. সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমন (৪৫), ২১ নম্বর কেবি সাহা বাইলেন এলাকার মো. দেলোয়ার হোসেনের ছেলে সিয়াম আহমেদ সিজান (২১) এবং একই এলাকার মৃত সমর্চান সরদারের ছেলে মো. সোহান (২৪)।

এদিকে, শুভ হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অনিক, অহিদসহ অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও অন্যান্য আলামত উদ্ধারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে, এর আগে ২ সেপ্টেম্বর বিকেলে আমলাপাড়ায় ফাতেমা ওরফে ফতে’র বাড়িতে অভিযান চালায় ডিবি। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অনিক ও তার সহযোগীরা বাড়ির দ্বিতীয় তলার ছাদ দিয়ে দেয়াল টপকে পালিয়ে যায় বলে জানায় ডিবি। পরে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে গাঁজা, দেশীয় অস্ত্র ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

ফতে, তার ছেলে অনিক ও সুজনকে আসামি করে এ ঘটনায় সদর মডেল থানায় পৃথক দুটি এজাহার দায়ের করেন ডিবির এসআই মফিজুল ইসলাম।

শুভকে হত্যার পেছনে ওই ডিবি অভিযানই মূল কারণ ছিল কি না, তদন্তে তা আরও স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “শুভ নিজেও একজন মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলাও রয়েছে মাদকের। অনিকের সঙ্গেও তার যোগাযোগ ভালো ছিল। কিন্তু সম্প্রতি অনিকের বাড়িতে অভিযান নিয়ে শুভকে সন্দেহ করছিল। সোর্সিং-এর একটি বিষয় তদন্তে আমাদেরও এসেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে আমরা আরো অধিকতর তদন্ত করছি।”

সর্বশেষ

জনপ্রিয়