১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২০:৩৩, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউপি নির্বাচন: ‘মাই ম্যান’ খুঁজছেন এমপিরা

ইউপি নির্বাচন: ‘মাই ম্যান’ খুঁজছেন এমপিরা

সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে কিংবা অক্টোবরের শুরুতে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জের ইউনিয়নগুলোতে চেয়ারম্যান পদে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতা নিজেদের প্রার্থিতার জানান দিচ্ছেন। তবে দলীয় প্রতীক বা সরাসরি মনোনয়ন না থাকায় প্রার্থী বাছাইয়ে এবার স্থানীয় সংসদ সদস্যদের পছন্দ-অপছন্দই বড় নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে।

দলীয়ভাবে এখনো প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা না থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে এমপিদের ঘনিষ্ঠ নেতারা মাঠ গোছাতে শুরু করেছেন। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপির নেতৃত্বের ওপর সংসদ সদস্যদের প্রভাব থাকায় চেয়ারম্যান পদে কারা দলীয় সমর্থন পাবেন, তা অনেকটাই নির্ভর করবে এমপিদের পছন্দের ওপর। অর্থাৎ, সাংগঠনিক দক্ষতা বা ভোটের মাঠে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি এমপির প্রতি কতটা অনুগত- সেটিও প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছে, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বা সরাসরি দলীয় মনোনয়ন থাকবে না। তবে ইউনিয়ন পর্যায়ে একক প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির আগের অবস্থানই রয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় নেতৃত্বের ওপরই মূলত দায়িত্ব পড়বে। আর সেই স্থানীয় নেতৃত্বের বড় একটি অংশ সংসদ সদস্যদের প্রভাববলয়ের মধ্যে থাকায় ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে এমপিদের পছন্দের প্রার্থীদের গুরুত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের পাঁচ উপজেলায় মোট ৩৯টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এসব ইউনিয়নের বেশির ভাগ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাদের আধিপত্য ছিল। এমনকি বিএনপির অনেক নেতাও আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন। তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের পতন ও দলটির রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ হওয়ার পর স্থানীয় পর্যায়ের সেই রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে গেছে। ইউনিয়নগুলোতে বিএনপি নেতাদের আধিপত্য বেড়েছে।

আওয়ামী লীগের নেতারা আত্মগোপনে থাকায় এবার চেয়ারম্যান পদে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতারাই মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সামনে আসছেন। একই ইউনিয়নে একাধিক নেতা প্রার্থিতার প্রস্তুতি নেওয়ায় দলের ভেতরেই প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। আর এই প্রতিযোগিতায় এমপিদের সমর্থন পাওয়া প্রার্থীরা অন্যদের তুলনায় এগিয়ে থাকতে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যাদেরকে এমপিদের ‘মাই ম্যান’ বলেই চিহ্নিত করছেন অনেকে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র বলছে, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের চারটিতে বিএনপি জয় পেয়েছে। সদর-বন্দর আসনে অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, সিদ্ধিরগঞ্জ-সোনারগাঁ আসনে আজহারুল ইসলাম মান্নান, আড়াইহাজারে নজরুল ইসলাম আজাদ এবং রূপগঞ্জে মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

ফতুল্লা তথা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী পরাজিত হলেও ওই এলাকায় দলটির সাংগঠনিক প্রভাব রয়েছে। এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন।

দলটির একাধিক নেতার ভাষ্য, এসব এলাকায় সংসদ সদস্যরা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের এগিয়ে রাখছেন। স্থানীয় নেতৃত্বে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে এমপিরা এমন প্রার্থী চান, যারা নির্বাচনের পরও তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন। ফলে ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রার্থী বাছাইয়ে এমপির পছন্দের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

একাধিক নেতা বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রার্থীর সাংগঠনিক যোগ্যতা কিংবা ভোটের মাঠে অবস্থানের চেয়ে এমপির সঙ্গে তার সম্পর্ক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এমপির ঘনিষ্ঠ ও অনুগত নেতারাই ‘সবুজ সংকেত’ পাচ্ছেন। ফলে চেয়ারম্যান পদে শেষ পর্যন্ত এমপিদের পছন্দের প্রার্থীরাই একক প্রার্থী হিসেবে সামনে আসতে পারেন।

তবে দলীয় প্রতীক বা আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন না থাকায় এই সমীকরণ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে ভিন্ন হিসাবও রয়েছে। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের যেসব নেতা ইতোমধ্যে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে প্রস্তুত করছেন, তাদের সবাই শেষ পর্যন্ত এমপির পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে সরে দাঁড়াবেন এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং একক সমর্থন না পেলেও অনেকে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে থাকার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ফলে, ইউপি নির্বাচনে একদিকে যেমন এমপিদের পছন্দের প্রার্থীদের প্রাধান্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, অন্যদিকে দলীয় প্রতীক না থাকায় সেই পছন্দের প্রার্থীকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে কতটা ঐক্য তৈরি হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। শেষ পর্যন্ত এমপিদের ‘মাই ম্যান’ হিসেবে পরিচিত প্রার্থীরাই চেয়ারম্যান পদে প্রাধান্য পান, নাকি মাঠের জনপ্রিয়তা অন্য সমীকরণ তৈরি করে- তা নির্ধারিত হবে নির্বাচনী মাঠে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়