১৪ অক্টোবর ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২২:১৮, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যক্রম বাড়ানোর আহ্বান

নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যক্রম বাড়ানোর আহ্বান

নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের বিশিষ্ট নাগরিকেরা। তাঁরা বলেছেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষা, সংস্কৃতি, নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা যাতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পান, সে জন্য ব্যাপক প্রচারণা চালানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তাঁরা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের ১৮ নম্বর নবাব সলিমুল্লাহ রোডে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির সঙ্গে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা এ সভার আয়োজন করে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় পাঠাগার ও গবেষণা সম্পাদক এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি রীনা আহমেদ।

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি, কবি ও সাংবাদিক হালিম আজাদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ভবানী শংকর রায়, রাজনীতিবিদ হাফিজুল ইসলাম, সুজনের সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অ্যাডভোকেট জাহিদুল হক দীপু, সামাজিক সংগঠক গোবিন্দ সাহা, মুকাভিনয়শিল্পী জহিরুল ইসলাম মিন্টু, ব্যবসায়ী শিশির চক্রবর্তী এবং মহিলা পরিষদের জেলা আন্দোলন সম্পাদক সাহানারা বেগম।

বক্তারা সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কুমিল্লায় ঘটে যাওয়া দুটি হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে তাঁরা এসব ঘটনার সামাজিক প্রভাব নিয়ে ভাবার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

তাঁরা বলেন, বর্তমান সামাজিক অবক্ষয় রোধে শিক্ষা ও সংস্কৃতিচর্চা বাড়ানো জরুরি। শিক্ষা ও সংস্কৃতির ওপর আঘাতের প্রবণতা প্রতিরোধ করতে হবে। যাঁরা এসব চর্চার বিরোধিতা করেন, তাঁদের পাশাপাশি প্রতিবাদকারীদের মধ্যেও শিক্ষা ও সংস্কৃতিচর্চার ঘাটতি রয়েছে কি না, তা নিয়েও আত্মসমালোচনা প্রয়োজন।

বক্তারা আরও বলেন, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও পোশাকসংক্রান্ত বিধিনিষেধ অনেক নারীর শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার পথে সামাজিক বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পরিবার ও সমাজের নানা বাধা পেরিয়ে যেসব নারী শিক্ষা ও কর্মজীবনে এগিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে। পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষার প্রসার এবং সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ নিতে হবে।

নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা কীভাবে সহায়তা পেতে পারেন, সে বিষয়ে মহিলা পরিষদকে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানান বক্তারা। তাঁরা বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির কার্যক্রম বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টিতে সংগঠনগুলোকে ভূমিকা রাখতে হবে।

সভায় মহিলা পরিষদের জেলা শাখার সহসভাপতি প্রীতিকণা দাস ও কৃষ্ণা ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক রহিমা খাতুন, সহসাধারণ সম্পাদক শোভা সাহা, সংগঠন সম্পাদক কানিজ ফাতেমা, সদস্য ফাহমিদা আজাদ, প্রোগ্রাম এক্সিকিউটিভ সুজাতা আফরোজ, রাশিদা বেগম ও লিপি সরকার উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়