০৯ অক্টোবর ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২১:১৭, ৯ অক্টোবর ২০২৬

সরকার বদলেছে, লুটপাটকারীদের স্বার্থ বদলায়নি: ফিরোজ

সরকার বদলেছে, লুটপাটকারীদের স্বার্থ বদলায়নি: ফিরোজ

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেছেন, ‘এ দেশের ধনী শ্রেণি, লুটপাট ও দখলদারদের প্রতিনিধিত্ব করতেন শেখ হাসিনা। ড. ইউনূসও তাদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বর্তমানে তারেক রহমানের সরকারও তাদের প্রতিনিধিত্ব করছে।’

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার রেললাইন বটতলায় সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের নারায়ণগঞ্জ শিল্পাঞ্চল শাখার উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ।

বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলে মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। শেখ হাসিনার শাসনামলে চাঁদাবাজি, লুটপাট, দলীয়করণ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এসব থেকে মুক্তির আশায় মানুষ গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও মানুষের সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।

বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘সরকার ক্ষমতায় এসে যে কাজটি করেছে, সেই একটি কাজেই বোঝা যায়, এটি গরিব মানুষের সরকার, বড়লোকদের সরকার নাকি লুটপাটকারীদের সরকার।’

তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার ১৮ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অথচ শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। নিত্যপণ্য, বাড়িভাড়া ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়ে ফিরোজ বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধি করা হলেও শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির জন্য এখনো কেন কোনো মজুরি বোর্ড গঠন করা হচ্ছে না? বাজারদরের সঙ্গে সংগতি রেখে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণ করতে হবে।’

দেশে চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজি এখন একটি নিয়ম হয়ে গেছে। অনিয়মটাই নিয়ম হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তারেক রহমান দেশে এসে বলেছিলেন, “আই হ্যাভ আ প্ল্যান”। কিন্তু সেই পরিকল্পনা কী, তা প্রকাশ করেননি। এখন তিনি সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে দেখাচ্ছেন।’

চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা দেওয়ার উদ্যোগের বিরোধিতা করে ফিরোজ বলেন, ‘দেশের হৃদপিণ্ড যদি ইজারা দেওয়া হয়, তাহলে দেশের বন্দর বাঁচবে না, দেশ ও দেশের অর্থনীতি বাঁচবে না। জাতীয় নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বও হুমকির মুখে পড়বে।’

এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন চুক্তি ও বন্দর ইজারার বিরুদ্ধে দলটি কার্যকর কোনো প্রতিবাদ করছে না।

জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে নেতা হয়েছেন। কিন্তু শ্রমিকদের কাছে না গিয়ে শিল্পপতি, পুঁজিপতি ও ধনী ব্যক্তিদের কাছে গেছেন। তাঁদের কাছ থেকে পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে গরিব মানুষের কষ্ট বোঝা সম্ভব নয়।’

বামপন্থীদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, ‘আমাদের সংসদে প্রতিনিধি না থাকলেও শ্রমিক-কৃষকের স্বার্থ, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আমরা রাজপথে ছিলাম, আছি এবং থাকব।’

সমাবেশে বক্তারা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং জাতীয় সম্পদ ও বন্দর ইজারার উদ্যোগের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়