দুদকের মামলায় সাহাপাড়ার অঞ্জনকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ
নারায়ণগঞ্জ নগরীর সাহাপাড়া এলাকার বাসিন্দা এক্সিম ব্যাংক পিএলসি’র সাবেক পরিচালক অঞ্জন কুমার সাহাকে পলাতক উল্লেখ করে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ। অঞ্জন কুমার ছাড়াও এই মামলার আরো ২৭ জন আসামিকেও আদালতে হাজির হতে হবে।
গত ১ অক্টোবর ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসামিরা গ্রেপ্তার ও বিচারের মুখোমুখি হওয়ার বিষয়টিকে এড়ানোর জন্য আত্মগোপনে রয়েছেন। ১৯৫৮ সালের ক্রিমিনাল ‘ল’ এমেন্ডমেন্ট অ্যাক্টের ৬ (১এ) ধারার বিধি অনুযায়ী তাদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতে তারা হাজির না হলে তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম শুরু করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এক্সিম ব্যাংকের সাবেক পরিচালক অঞ্জন কুমার সাহার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ শহরের সাহাপাড়া এলাকার এসএম মালেহ রোডে। তার পিতার নাম নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন এক্সিম ব্যাংকের মালিকানার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। ব্যাংকটির নিজস্ব প্রকাশিত তথ্যে তাকে ব্যাংকের অন্যতম স্পন্সর পরিচালক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জিএন কটন স্পিনিং মিলস লিমিটেডের পরিচালক অঞ্জনের কাঁচা তুলা ও সুতা আমদানিরও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। শহরের টানবাজারে সুতার ব্যবসাখাতেও বেশ পরিচিতি রয়েছে তার। জিএন কটন স্পিনিং মিলের প্রধান কার্যালয়টিও টানবাজার এলাকায় অবস্থিত। এক্সিম ব্যাংকের রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়। কিন্তু পরে গঠিত ৫ সদস্যের বোর্ড গঠন করা হলে সেখানেও স্থান পান অঞ্জন কুমার সাহা। ওই সময় তিনি ব্যাংকটির দুই শতাংশের শেয়ারহোল্ডার ছিলেন।
অঞ্জন কুমার ছাড়াও এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও সাবেক চেয়ারম্যানসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে গত বছরের ২০ আগস্ট একটি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন। সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এর দায়ের করা মামলায় দণ্ডবিধির ৪২০, ৪০৯, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারার পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ তোলা হয়।
‘ফ্ল্যামিংগো এন্টারপ্রাইজ’ নামের অস্তিত্বহীন একটি প্রতিষ্ঠানের নামে ৬১৫ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয় দুদকের ওই মামলায়।
এ মামলায় হাজির হতে আদালতের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। তারা গ্রেপ্তার ও বিচারের সোপর্দ হওয়া এড়াতে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে বিশ্বাস করার যুক্তিসংগত কারণ রয়েছে এবং শীঘ্রই তাদের গ্রেপ্তারের সম্ভাবনাও নেই। এ কারণে ১৯৫৮ সালের ক্রিমিনাল ল’ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্টের ৬(১এ) ধারা অনুযায়ী তাদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখ ২৮ অক্টোবরের হাজির না হলে আইন অনুযায়ী আসামিদের অনুপস্থিতিতে বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে, এ বিষয়ে এক্সিম ব্যাংকের সাবেক পরিচালক অঞ্জন কুমার সাহার মুঠোফোনের নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি কলগুলো রিসিভি করেননি।





































