২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২০:৪৯, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ২১:১২, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভাড়া নিয়ে ছাত্র ফেডারেশনের প্রতিবাদ, বাস মালিকপক্ষের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা

ভাড়া নিয়ে ছাত্র ফেডারেশনের প্রতিবাদ, বাস মালিকপক্ষের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বন্ধন ও উৎসব পরিবহনের বিরুদ্ধে। সরকারি হিসাবে যতটুকু ভাড়া বাড়ার কথা, তার চেয়ে বেশি ভাড়া নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের হাফ পাসেও অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন।

এ নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে শহরের উৎসব ও বন্ধন বাস কাউন্টারে প্রতিবাদ করেন ছাত্র ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা। এ সময় বাস মালিকপক্ষের সঙ্গে তাদের তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়।

জানা গেছে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বন্ধন ও উৎসব পরিবহন আগের ৫৫ টাকার ভাড়া বাড়িয়ে ৬০ টাকা আদায় শুরু করে। সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির আগেই ২২ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে এই বর্ধিত ভাড়া নেওয়া শুরু হয়েছিল।

পরে সরকার ডিটিসিএর আওতাধীন নারায়ণগঞ্জসহ ছয় জেলার বাস ও মিনিবাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৪৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৬০ পয়সা নির্ধারণ করে। অর্থাৎ কিলোমিটারে ভাড়া বেড়েছে ১৭ পয়সা।

ছাত্র ফেডারেশনের হিসাবে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার ধরলেও কিলোমিটারপ্রতি ১৭ পয়সা হিসাবে ভাড়া বাড়ে প্রায় ৩ টাকা ৪০ পয়সা। কিন্তু বন্ধন ও উৎসব পরিবহন একবারে ৫ টাকা বাড়িয়ে যাত্রীপ্রতি ৬০ টাকা আদায় করছে।

আর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছিল আরও বেশি। ৬০ টাকার অর্ধেক ৩০ টাকা হলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হাফ পাসের নামে ৪০ টাকা নেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ ছাত্র ফেডারেশনের।

সংগঠনটির নেতাদের ভাষ্য, এভাবে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীর কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পকেট কাটা হচ্ছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে নিজেদের ইচ্ছামতো ভাড়া নির্ধারণের সুযোগ পরিবহন মালিকদের নেই।

এর আগে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির আগেই ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ রওশন আলী সরকারও জানিয়েছিলেন, বন্ধন ও উৎসব নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ভাড়া বাড়িয়েছে। তিনি তাদের সরকারি প্রজ্ঞাপন ছাড়া ভাড়া না বাড়াতে বলেছিলেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার ছাত্র ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা কাউন্টারে গিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদ জানালে বাস মালিক ও কর্মচারীরা কাউন্টার বন্ধ করে দেন বলে সংগঠনটির নেতারা জানান। এতে সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাস মালিকপক্ষের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

ছাত্র ফেডারেশনের অভিযোগ, একপর্যায়ে বাস মালিকপক্ষ থেকে তাদের ‘দেখে নেওয়া’ এবং নারায়ণগঞ্জ অচল করার হুমকি দেওয়া হয়। এতে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।

প্রায় আধা ঘণ্টা কাউন্টার বন্ধ থাকার পর শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে আবার কাউন্টার চালু করা হয়। এরপর সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে ৫৫ টাকা এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩০ টাকা হাফ ভাড়া নেওয়া হয়। ছাত্র ফেডারেশনের উপস্থিতিতে এই ভাড়ায় পরপর তিনটি বাস যাত্রী নিয়ে গুলিস্তানের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

পরে পরিবহন খাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানির স্থায়ী সমাধানের দাবিতে ছাত্র ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সংগঠনটির নেতাদের ভাষ্য, জেলা প্রশাসক সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ছাত্র ফেডারেশনের নেতারা জানিয়েছেন, সাধারণ যাত্রী ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অযৌক্তিকভাবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ না হলে তারা আবারও কর্মসূচিতে যাবেন।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়