৯ মাস পর ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের এক্সরে বিভাগ চালুর উদ্যোগ
দীর্ঘ নয় মাস বন্ধ থাকার পর নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের এক্সরে বিভাগ পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনবল সংকট কাটিয়ে সম্প্রতি বিভাগটির জন্য একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় এক্সরে যন্ত্রে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় এখনো সেবা চালু করা সম্ভব হয়নি।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নাজমুল হোসেন বিপুল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে এক্সরে বিভাগের জন্য একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা যন্ত্রটি সচল করার কাজ চলছে।
তিনি বলেন, ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞরা এসে এক্সরে যন্ত্রটি পরীক্ষা করে ত্রুটিগুলো শনাক্ত করেছেন। দ্রুত এসব ত্রুটি সমাধান করে কয়েক দিনের মধ্যে বিভাগটি চালু করার আশা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি এক্সরে বিভাগের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো. আলী আকবর খান মারা যাওয়ার পর থেকেই বিভাগটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন জনবল সংকটের পর সম্প্রতি নতুন টেকনোলজিস্ট নিয়োগ দেওয়া হলেও যন্ত্রের কারিগরি ত্রুটির কারণে সেবা চালু করতে বিলম্ব হচ্ছে।
এদিকে দীর্ঘদিন এক্সরে সেবা বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। বাধ্য হয়ে তাদের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।
হৃদযন্ত্রের সমস্যাসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা নিয়ে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা হোসিয়ারি ব্যবসায়ী মো. রমজান বলেন, “ডাক্তার যে পরীক্ষাগুলো দিয়েছেন, তার বেশিরভাগই হাসপাতালের ভেতর থেকে করিয়েছি। কিন্তু এক্সরে করা যায়নি। পরে বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে পরীক্ষা করিয়ে আনতে হয়েছে।”
তিনি বলেন, “বাইরে পরীক্ষা করতে গেলে খরচ বেশি পড়ে। হাসপাতালে কম খরচে এক্সরে করার সুযোগ থাকলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের অনেক উপকার হতো। কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি, দ্রুত যেন এক্সরে বিভাগটি চালু করা হয়।”
মাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে আসা মনিকা রানী জানান, তার মায়ের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণে চিকিৎসক কয়েকটি পরীক্ষার পাশাপাশি এক্সরে করতে দিয়েছেন। কিন্তু হাসপাতালের এক্সরে বিভাগ বন্ধ থাকায় বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতে হয়েছে।
এক্সরে বিভাগ চালুর উদ্যোগের খবর শুনে তিনি বলেন, “দ্রুত এটি চালু হলে আমাদের জন্য অনেক ভালো হবে। সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত সেবা চালু করা।”
তিনি আরও বলেন, “যাদের আর্থিক সামর্থ্য কম, তাদের জন্য বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করানো বেশ কষ্টকর। এখানে একটি সাধারণ এক্সরে করতে যেখানে প্রায় ২০০ টাকা লাগে, সেখানে বাইরে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একই পরীক্ষার জন্য ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়।”
আরএমও ডা. নাজমুল হোসেন বিপুল বলেন, “এটি দীর্ঘদিনের একটি বড় সমস্যা। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। এক্সরে বিভাগ বন্ধ থাকায় তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। আমরা দ্রুত এটি চালুর চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে সিভিল সার্জনেরও কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।”
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগ মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। এছাড়া প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। সে হিসাবে মাসে প্রায় ৬০ হাজার রোগী বহির্বিভাগে এবং প্রায় ৩ হাজার ৬০০ রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে আসা এই সরকারি হাসপাতালে দ্রুত এক্সরে সেবা চালু করা গেলে রোগীদের সময় ও অর্থ দুটিই সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি সরকারি ব্যবস্থাপনায় কম খরচে রোগ নির্ণয়ের গুরুত্বপূর্ণ এই সেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।





































