নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১ হাজার ৬৬৩, সেপ্টেম্বরেই ৩৪৪
নারায়ণগঞ্জে দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। চলতি বছর এখন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৬৩ জনে। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম কয়েক দিনেই আক্রান্ত হয়েছেন ৩৪৪ জন। আর আগস্ট মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৭৫৬ জন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নারায়ণগঞ্জে নতুন করে ৩৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ৩৫ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে কারও মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।
চলতি বছর এ পর্যন্ত আক্রান্ত ১ হাজার ৬৬৩ জনের মধ্যে ১ হাজার ৫২১ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ১৪২ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতাল (খানপুর), নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল, আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বন্দর, রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁয়ের হাসপাতালগুলোতে রোগী ভর্তি হয়েছেন।
এদিকে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওষুধ ও স্যালাইনের সরবরাহ বর্তমানে ভালো রয়েছে। চিকিৎসকদের পাশাপাশি নার্সদের সেবা ও ব্যবহারে সন্তুষ্টির কথাও জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন রোগী।
তবে ছোটখাটো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগীদের বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। রোগীদের জন্য মশারির ব্যবস্থা থাকলেও নিয়মিত বেডশিট পরিবর্তন করা হয় না বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন রোগী।
হাসপাতালের আয়া কর্মীদের কথাবার্তা ও ব্যবহার নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রোগীরা। তাঁদের অভিযোগ, কোনো কোনো সময় আয়ারা রোগীদের সঙ্গে কিছুটা উঁচু স্বরে কথা বলেন।
হাসপাতালের বাথরুমের পরিবেশ নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। রোগীদের ভাষ্য, কয়েকটি বাথরুম অত্যন্ত নোংরা ও নাজুক অবস্থায় রয়েছে। কোথাও কোথাও পানি পড়ে মেঝেতে জমে থাকে।
বিদ্যুৎ চলে গেলে নিয়মিত জেনারেটর চালু করা হয় না বলেও অভিযোগ করেছেন রোগীরা। এতে বিদ্যুৎ না থাকা অবস্থায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাঁদের।
লিফট নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। রোগীদের ভাষ্য, মাঝে মধ্যে লিফট বন্ধ রাখা হয়। গতকাল সারা রাত লিফট চালু থাকলেও আজ দুপুর ২টা থেকে লিফট সার্ভিস বন্ধ ছিল। পরে সন্ধ্যা ৬টার কিছুক্ষণ আগে আবার লিফট চালু করা হয়।
বন্দরের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তিনি জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কয়েকদিন আগে থেকেই তাঁর শরীরে জ্বর জ্বর ভাব ছিল। প্রাথমিক পরীক্ষায় প্লাটিলেটও কমে গিয়েছিল। বর্তমানে প্লাটিলেট কিছুটা বেড়েছে এবং শারীরিক অবস্থাও আগের তুলনায় ভালো।
তবে ডেঙ্গুর পাশাপাশি তাঁর টাইফয়েডও ধরা পড়েছে। রফিকুল বলেন, বর্তমানে ডেঙ্গুর চেয়ে টাইফয়েডের প্রভাবেই শরীর বেশি দুর্বল ও অসুস্থ লাগছে। হাসপাতালে ওষুধ ও স্যালাইন ভালোভাবে পেলেও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাইরের ল্যাব থেকে করাতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
মদনগঞ্জের বাসিন্দা মোহাম্মদ হাসান গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুই দিন ধরে চিকিৎসাধীন এই রোগীর শারীরিক অবস্থার বর্তমানে উন্নতি হয়েছে। চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সদের সার্বিক সেবা ও আন্তরিকতায় তিনি সন্তুষ্ট। শারীরিক অবস্থার উন্নতি অব্যাহত থাকলে আগামীকালই ছাড়পত্র পাওয়ার আশা করছেন তিনি।
ফতুল্লা পোস্ট অফিস এলাকার এক রোগী গত তিন দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি অভিযোগ করেন, মশারি দেওয়া হলেও বেডশিট নিয়মিত পরিবর্তন করা হয়নি। তাঁর ভাষ্য, তাঁর আগে যে রোগী ওই বেডে ভর্তি ছিলেন, তাঁর ব্যবহৃত ময়লা বেডশিটেই তাঁকে থাকতে দেওয়া হয়েছে।
ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রোগীদের ব্যবহার্য সামগ্রী নিয়মিত পরিবর্তন, বিদ্যুৎ ও লিফট ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলোতেও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন রোগীরা।





































