৩১ আগস্ট ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৬:২২, ৩০ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ১৬:২৩, ৩০ আগস্ট ২০২৬

সিজারে ‘ভুল চিকিৎসার’ অভিযোগ, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন ২৩ বছরের সিনথিয়া

সিজারে ‘ভুল চিকিৎসার’ অভিযোগ, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন ২৩ বছরের সিনথিয়া

নারায়ণগঞ্জের বন্দরের মদনপুরে মা হসপিটালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় এক প্রসূতি নারীর অভ্যন্তরীণ নাড়ি কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালটির গাইনি চিকিৎসক সায়মা আক্তারের বিরুদ্ধে। অস্ত্রোপচারের পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে ওই নারী বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগী সিনথিয়া রহমান (২৩) নারায়ণগঞ্জ নগরীর মাসদাইর এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ মাসুমের স্ত্রী। তার স্বজনদের দাবি, ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম।

সিনথিয়ার স্বামী মোহাম্মদ মাসুম অভিযোগ করে বলেন, তার শ্বশুরবাড়ি মদনপুর এলাকায়। সন্তান প্রসবের জন্য তার স্ত্রীকে মা হসপিটালে নেওয়া হয়। সেখানে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকের ভুলে তার স্ত্রীর ভেতরের একটি নাড়ি কেটে যায় বলে তারা জানতে পারেন।

তিনি বলেন, অস্ত্রোপচারের পর থেকেই সিনথিয়ার পেটে ব্যথা শুরু হয়। কয়েক দিন পর ব্যথা বেড়ে গেলে তাকে আবার ওই হাসপাতালে নেওয়া হয়। তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রস্রাব না হওয়ার কারণে পেট ফুলে গেছে এবং প্রস্রাব হলে সমস্যা ঠিক হয়ে যাবে বলে জানানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।

পরে অবস্থার অবনতি হলে সিনথিয়াকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান মাসুম।

মাসুমের ভাষ্য, ঢাকা মেডিকেলে অস্ত্রোপচার করে তার স্ত্রীর পেটের ভেতর জমে থাকা হজম না হওয়া খাবার ও অন্যান্য বর্জ্য বের করা হয়। বর্তমানে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তার জ্বরও কমছে না বলে জানান তিনি।

মাসুম বলেন, ‘২৩ বছরের একটি মেয়ে একসঙ্গে এতগুলো অপারেশন কীভাবে সহ্য করবে? আমরা আমার স্ত্রীকে বাঁচানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আমাদের সন্তান জন্মের পর থেকে এখনো মায়ের দুধ খেতে পারছে না।’

এ ঘটনায় মা হসপিটাল ও অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত চিকিৎসক সায়মা আক্তার। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই চিকিৎসকের দাবি, তিনি অস্ত্রোপচারের সময় কোনো ধরনের ভুল করেননি এবং সবকিছু নিয়ম অনুযায়ী করেছেন।

মা হসপিটালের পরিচালক দ্বীন ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। যে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি সবকিছু ঠিকঠাকভাবেই করেছেন। তারপরও হাসপাতালের পক্ষ থেকে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আমরা তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।’

অভিযুক্ত চিকিৎসক সায়মা আক্তারের বক্তব্য জানতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে তার মোবাইল নম্বর চাওয়া হয়। হাসপাতাল থেকে দেওয়া নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার সরাসরি বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমি এখনো শুনিনি। তবে তদন্ত করে অবশ্যই দেখব, চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি আছে কি না। গাফিলতি পাওয়া গেলে আইনগতসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন রোগীর স্বজনরা।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়