ছিনতাইকারী চক্রের টার্গেট শীতলক্ষ্যায় নৌভ্রমণে আসা তরুণ-তরুণী
নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে নৌভ্রমণে যাওয়া তরুণ-তরুণীদের টার্গেট করে ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। স্পিডবোটে এসে নৌকা আটক করে চাঁদা দাবি, মারধর এবং মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে শীতলক্ষ্যা নদীতে নৌভ্রমণে যাওয়া মানুষজনকে টার্গেট করে ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। একটি চক্র স্পিডবোট ব্যবহার করে নদীতে ঘুরতে থাকা নৌকা আটকে ছিনতাই করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে কয়েকজন স্পিডবোট মালিক ও নৌকার মাঝির যোগসাজশ থাকার অভিযোগও উঠেছে।
পুলিশের একাধিক সূত্রের দাবি, এ ঘটনায় বন্দরের লাবিব (৩২) নামে এক ব্যক্তির নাম একাধিকবার উঠে এসেছে। তার বিরুদ্ধে সর্বশেষ ঘটনাতেও অভিযোগ করা হয়েছে। নবীগঞ্জ এলাকায় চলমান একটি অস্থায়ী মেলায় তিনি স্পিডবোট ভাড়ার সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, লাবিব ও তার অনুসারী কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্য স্পিডবোট ভাড়া নিয়ে ছিনতাই করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ ঘটনায় ব্যবহৃত স্পিডবোটটিও লাবিবের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে চৌরঙ্গী ফ্যান্টাসি পার্কের ইজারাদার আব্দুস সাত্তার বলেন, স্পিডবোটটি তাদের ঘাটে রাখা হলেও এর মালিক শহীদ নামে এক ব্যক্তি। তিনিই বোটটি পরিচালনা করেন।
নৌভ্রমণে গিয়ে ছিনতাই
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ আগস্ট দুপুরে মাইনুদ্দিন আহম্মেদ রাহাত তার এক বান্ধবীকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের ৫ নম্বর ঘাটে যান। সেখান থেকে নৌকার মাঝি আব্দুল হক মিয়ার নৌকা ২৫০ টাকায় ভাড়া নিয়ে তারা শীতলক্ষ্যায় ঘুরতে বের হন।
নৌকাটি ৫ নম্বর ঘাটসংলগ্ন বিআইডব্লিউটিএ কার্যালয়ের কাছে পৌঁছালে মাঝি নৌকার ছইয়ের ওপর গিয়ে বসেন। এ সময় মাঝির পূর্বপরিচিত কয়েকজন একটি স্পিডবোটে এসে নৌকাটি আটকে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, তারা নৌকায় ‘প্রেম’ করতে হলে ১০ হাজার টাকা দিতে হবে বলে দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তরুণ ও তরুণীকে মারধর করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও একটি স্বর্ণের আংটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর মাইনুদ্দিন বিষয়টি সদর নৌ থানা পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ তাকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালিয়ে মুন্সিগঞ্জের দিক থেকে আসা একটি স্পিডবোট নারায়ণগঞ্জের ১ নম্বর সেন্ট্রাল খেয়াঘাটের সামনে থেকে আটক করে। এ সময় স্পিডবোটসহ তিনজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
মামলায় নবীগঞ্জ ইসলামবাগ এলাকার মুক্তার মিয়ার ছেলে লাবিব, নৌকার মাঝি আব্দুল হক মিয়া (৭০), বরফকল ঘাট এলাকার আবুল কালামের ছেলে তাওহীদ (১৯), চৌরঙ্গী ফ্যান্টাসি পার্ক এলাকার আওলাদ মাতবরের ছেলে সাগর ইসলাম (১৯), সাকিবসহ অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
তবে মামলার প্রধান অভিযুক্ত লাবিবসহ কয়েকজন এখনো পলাতক রয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ সদর নৌ থানা পুলিশ সূত্র জানায়, গত কয়েক মাসে শীতলক্ষ্যায় নৌভ্রমণকারীদের ছিনতাইয়ের ঘটনায় বেশ কয়েকটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগে লাবিব ও তার সহযোগীদের নামও উঠে এসেছে। তবে আইনি জটিলতা এড়াতে অনেক ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি।
নারায়ণগঞ্জ সদর নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুজ্জামান বলেন, “স্পিডবোটে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্ত লাবিবসহ আরও কয়েকজন এখনো পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”
তিনি বলেন, “এ ধরনের ঘটনায় অনেক ভুক্তভোগী থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন না। ফলে পুলিশের কাছে সব ঘটনার তথ্য আসে না। তবে অভিযোগ পাওয়ার পর তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
ওসি আরও বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যবহৃত স্পিডবোটটি বিআইডব্লিউটিএ কার্যালয়সংলগ্ন পার্কের এলাকা থেকে শনাক্ত করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের একাধিক সূত্র বলছে, লাবিব ও তার অনুসারী কিশোর গ্যাং-এর সদস্যরা স্পিডবোট ভাড়া নিয়ে ছিনতাই করে বেড়ায়। গত সোমবারের স্পিডবোটটি তারা ভাড়া করেছিলেন লাবিবের কাছ থেকে। এ বোটটি বরফকল এলাকায় চৌরঙ্গী ফ্যান্টাসী পার্কের ঘাটে ভেড়ানো থাকে।
তবে, চৌরঙ্গী ফ্যান্টাসি পার্কের ইজারাদার আব্দুস সাত্তার বলেন, বোটটি তাদের ঘাটে রেখে ভাড়ায় চালানো হলেও সেটির মালিক শহীদ নামে এক ব্যক্তি। তিনিই বোটটি পরিচালনা করেন।





































