যুবদলে নতুন কমিটির গুঞ্জন, ত্যাগী-পরিচ্ছন্ন নেতৃত্ব চায় তৃণমূল
নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর যুবদলের নতুন কমিটি গঠনের গুঞ্জনের মধ্যে নেতৃত্বে ত্যাগী, পরীক্ষিত ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের দেখতে চান তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং সাংগঠনিক দক্ষতাকে বিবেচনায় নিয়েই আগামী নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে।
নতুন কমিটি শিগগিরই ঘোষণা হতে পারে রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন আলোচনার মধ্যে পদপ্রত্যাশীদের তৎপরতাও বেড়েছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ, নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান তুলে ধরা এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে কর্মীসমাগমের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা। তবে নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘদিন আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে কার্যক্রম চলায় সংগঠনে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা রয়েছে। তৃণমূলের প্রত্যাশা, শুধু কেন্দ্রীয় যোগাযোগ কিংবা কর্মীসমাগমের সামর্থ্য দিয়ে নেতৃত্বের যোগ্যতা বিবেচনা করা হবে না। দুঃসময়ে যাঁরা মাঠে ছিলেন, মামলা-হামলার মধ্যেও সংগঠনের কাজ করেছেন এবং কর্মীদের পাশে থেকেছেন, তাঁদের মূল্যায়ন করা হবে। পাশাপাশি বিতর্ক এড়িয়ে সংগঠন পরিচালনা করতে সক্ষম নেতাদের দায়িত্ব দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন তাঁরা।
২০২২ সালের মার্চে গোলাম ফারুক খোকনকে আহ্বায়ক ও মশিউর রহমান রনিকে সদস্য সচিব করে জেলা যুবদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরের বছর আগস্টে সাদেকুর রহমান সাদেককে আহ্বায়ক, খাইরুল ইসলাম সজীবকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এবং মশিউর রহমান রনিকে সদস্য সচিব করে তিন সদস্যের নতুন কমিটি দেওয়া হয়। পরে গত বছরের জানুয়ারিতে কমিটি ৫১ সদস্যে সম্প্রসারণ করা হয়।
অন্যদিকে, ২০২৩ সালের আগস্টে মনিরুল ইসলাম সজলকে আহ্বায়ক, সাগর প্রধানকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সাহেদ আহমেদকে সদস্য সচিব করে মহানগর যুবদলের কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। পরে এই কমিটিও ৫১ সদস্যে সম্প্রসারিত হয়।
দলীয় সূত্রের ভাষ্য, আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে সম্মেলনের আয়োজন করে নিয়মিত নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রত্যাশা থাকলেও গত তিন বছরে জেলা ও মহানগরে সম্মেলন হয়নি। এ অবস্থায় সম্মেলন কিংবা ভোটের পরিবর্তে কেন্দ্র থেকে সরাসরি নতুন কমিটি ঘোষণার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছেন নেতাকর্মীদের অনেকে। ছাত্রদলের সাবেক নেতা ও তরুণদের মধ্য থেকে নতুন মুখ আসতে পারে বলেও গুঞ্জন রয়েছে।
নতুন নেতৃত্বে কারা আসবেন, পুরোনোদের মধ্যে কারা থাকবেন- এসব আলোচনা সামনে রেখে বর্তমান ও সাবেক দায়িত্বশীল নেতাদের পাশাপাশি নতুন মুখগুলোও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২৭ ও ২৮ অক্টোবরের কর্মসূচিকে নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ হিসেবে দেখছেন পদপ্রত্যাশীরা। সংগঠনের কর্মসূচির পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগেও কর্মসূচির প্রস্তুতি রয়েছে কারও কারও।
মহানগর যুবদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২৭ অক্টোবর বর্ণাঢ্য র্যালি এবং পরদিন ২৮ অক্টোবর সকাল ১০টায় চাষাঢ়া শহীদ মিনারে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা ক্যাম্প আয়োজন করা হবে। একই দিন সিদ্ধিরগঞ্জের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণের কর্মসূচিও রয়েছে।
নতুন কমিটির আলোচনা প্রসঙ্গে মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল বলেন, “নতুন কমিটি হবে কিনা, এটা তো আমি জানি না, এটা কেন্দ্র জানে। আমার যতটুকু জানামতে, এখনো পর্যন্ত নতুন কমিটির কোনো প্রক্রিয়া হচ্ছে না।”
নেতৃত্ব নির্বাচনে সাংগঠনিক ভূমিকা মূল্যায়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নেতৃত্ব যারাই আসুক না কেন, তারা তো দলের কতটুকু কাজ করেছে, কী করেছে না করেছে, তাদের কর্ম দিয়েই তারা কেন্দ্রের কাছে মূল্যায়ন পাবে। কেন্দ্রই তো চিন্তাভাবনা করবে কে যোগ্য, কে যোগ্য না।”
এদিকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও পেশিশক্তি প্রদর্শনের অভিযোগে বহিষ্কৃত নারায়ণগঞ্জের দুই যুবদল নেতা মোফাজ্জল হোসেন আনোয়ার ও মাসুদুর রহমান মাসুদকে স্বপদে বহাল করা হয়েছে। তাঁদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত রোববার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল।
এ বিষয়ে সজল বলেন, সংশ্লিষ্ট নেতারা ভুলের জন্য দীর্ঘদিন শাস্তি পেয়েছেন। পরে কেন্দ্রের কাছে ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেছেন। সংগঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তেই আগামী দিনের নেতৃত্ব চূড়ান্ত হবে।
অন্যদিকে যুবদল নেতা মশিউর রহমান রনি মনে করেন, আন্দোলন-সংগ্রামে কার কী ভূমিকা ছিল, তা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের জানা রয়েছে। তিনি বলেন, “আন্দোলন-সংগ্রামের সময় ছাত্রদল-যুবদলই মাঠে ছিল। কেন্দ্রীয় যুবদলের বর্তমান নেতৃত্ব ভালো করেই জানে কারা আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছে এবং কার কী অবস্থান ছিল।”
রনি আরও বলেন, “কেন্দ্রীয় নেতারাই জানেন কাকে কোথায় বসালে সংগঠনের গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে।”
নতুন মুখ ও বহিষ্কৃত নেতাদের ফেরার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে অনেকেই যুক্ত হতে চান। তবে নারায়ণগঞ্জে যাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাঁরা তৃণমূলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং দুঃসময়ে আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন বলেই কর্মীরা তাঁদের গ্রহণ করেছেন।
নতুন কমিটি ঘোষণার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না এলেও নেতৃত্বের যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আলোচনা চলছে। তৃণমূলের প্রত্যাশা, আগামী কমিটিতে ত্যাগের মূল্যায়নের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি, সাংগঠনিক দক্ষতা ও কর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেবে কেন্দ্র।





































