‘ওসমান পরিবারের ব্যবসা যারা দেখছেন, তারাই ত্বকীর বিচার বন্ধ রেখেছেন’
১৪ বছর হতে চললেও এ দীর্ঘ সময়ে নারায়ণগঞ্জের মেধাবী কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার বিচারকাজ শুরু না হওয়াতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার পিতা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি।
তিনি বলেন, সরকার বদল হলেও বিচার ব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন আসে নি। এখনো শেখ হাসিনার ধ্বংস করে রেখে যাওয়া বিচার ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা চলছে। ক্ষমতা নির্বিঘ্ন করার জন্য ইতিপূর্বে সব সরকারই বিচার ব্যবস্থাকে হাতিয়ার করেছে, এখনো তাই চলছে।
বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা দেখতে চান বলেও মন্তব্য করেন রাব্বি।
রোববার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় শহীদ মিনারে আয়োজিত আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।
ত্বকী হত্যা ও বিচারহীনতার ১৬৪ মাস উপলক্ষে প্রতিমাসের ধারাবাহিকতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করে নারায়ণগঞ্জ নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।
ত্বকী হত্যার জন্য সাবেক সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে রফিউর রাব্বি বলেন, “শেখ হাসিনা ওসমান পরিবারকে রক্ষা করার জন্য এ হত্যার বিচার সাড়ে ১১ বছর বন্ধ করে রেখেছিল। কিন্তু এখন বিচার হচ্ছে না কেন? অভিযোগপত্র জমা পড়ছে না কেন? তবে কি এই সরকারেরও কেউ কেউ তাদের রক্ষা করতে চাচ্ছে?”
গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপির লোকজন ওসমান পরিবারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সুরক্ষা দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন রাব্বি।
তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা ওসমান পরিবারকে রক্ষা করার জন্য এ হত্যার বিচার সাড়ে ১১ বছর বন্ধ করে রেখেছিল। কিন্তু এখন বিচার হচ্ছে না কেন? অভিযোগপত্র জমা পড়ছে না কেন? তবে কি এই সরকারেরও কেউ কেউ তাদের রক্ষা করতে চাচ্ছে? আমরা দেখছি, সরকার দলের কেউ কেউ ওসমান পরিবারের লোকদের এবং তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সুরক্ষা দিয়ে যাচ্ছ। আমরা মনে করছি, এইসব লোকজনই অর্থের বিনিময়ে ত্বকী হত্যার বিচার বাধাগ্রস্ত করছে।”
সংগঠনের সভাপতি মনি সুপান্থর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দীনা তাজরিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বি, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন, শিশু সংগঠক রথীন চক্রবর্তী, দৈনিক খবরের পাতার সম্পাদক অ্যাড. মাহাবুবুর রহমান মাসুম, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক দীপু, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা প্রদীপ ঘোষ বাবু, সিপিবির সাবেক জেলা সভাপতি হাফিজুর ইসলাম, ন্যাপ জেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আওলাদ হোসেন, গণসংহতি আন্দোলন জেলার যুগ্ম সমন্বয়ক অঞ্জন দাস, বাসদ জেলা সংগঠক এসএম কাদের, মহিলা পরিষদ নেত্রী শোভা সাহা, সামাজিক সংগঠন সমমনার সাবেক সভাপতি দুলাল সাহা।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরীর শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দু’দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।





































