০৮ নভেম্বর ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২১:২৯, ৮ নভেম্বর ২০২৬

ত্বকী হত্যার বিচার আমাদের পুরো প্রজন্মের দাবি: এমপি আল আমিন

ত্বকী হত্যার বিচার আমাদের পুরো প্রজন্মের দাবি: এমপি আল আমিন

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেছেন, “ত্বকী হয়তো জীবিত থাকলে এনসিপি করতেন না, কিন্তু এটা কোনো নির্দিষ্ট দলের দাবি না এটা আমাদের পুরো প্রজন্মের দাবি।”

রোববার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা ও দীর্ঘ বিচারহীনতার ১৬৪ মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোক প্রজ্বালন ও সংহতি সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

আল আমিন বলেন, “ত্বকী আসলে আমার নিজের প্রজন্মের মানুষ। উনি বেঁচে থাকলে হয়তোবা এখন নারায়ণগঞ্জের পরিবর্তনের যাত্রায় উনি অগ্রগামী থাকতেন, গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিতেন এবং নারায়ণগঞ্জের সকল অন্যায় ও বিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতেন। আমাদের প্রজন্মের এমন একজন মানুষের হত্যার বিচারের দাবিতে সংহতি জানাতেই আমি এখানে এসেছি।”

সংসদে যাওয়ার আগে ত্বকীর মায়ের চিঠি পাওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “প্রথম সংসদে যাওয়ার আগেই শহীদ ত্বকীর মায়ের একটি চিঠি পেয়েছিলাম। চিঠিটা পড়ে খুব কষ্ট লেগেছিল যে, হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার ১৩ বছর পরেও একজন মাকে সংসদ সদস্যদের কাছে বা বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চিঠি পাঠাতে হয় বিচারের দাবি জানিয়ে। স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও এমন একটা বাংলাদেশ আমরা তৈরি করতে পারি নাই যেখানে আইনের শাসন থাকবে। এটা আমাদের রাজনৈতিক পরিসরের সবার জন্য চরম লজ্জার।”

তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জের প্রতিটা মানুষ জানে এই হত্যাকাণ্ড কারা ঘটিয়েছে, অথচ প্রশাসন জানে না, ১০১ বার তদন্ত প্রতিবেদনের সময় পেছাতে হয়।

৫ আগস্ট পরবর্তী ফ্যাসিস্টমুক্ত এই বাংলাদেশে আমরা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন দেখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু অভ্যুত্থানের দুই বছর পরেও এসে যদি আমাদের শহীদ মিনারে দাঁড়াতে হয়, তবে তা জাতীয় লজ্জা।”

বিচারহীনতার পরিণতি তুলে ধরে আল আমিন আরও বলেন, “অসীম রক্তের প্রমাণ থাকার পরও ওসমানের হাতে যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা প্রশাসন ১৩ বছরেও উন্মোচন করতে পারল না। একটি সমাজে যখন হত্যা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বিচার হয় না, তখন হত্যাকারীরা সমাজের শাসক হয়ে দাঁড়ায়। ত্বকীর হত্যার বিচার ১৩ সালে হয়নি বলেই পরের ১২ বছর এক যুগ নারায়ণগঞ্জে ফ্যাসিস্টরা শাসন চালুর সুযোগ পেয়েছে।”

রাষ্ট্রের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “রাষ্ট্র কখনোই ত্বকীর জীবন ফেরত দিতে পারবে না, কিন্তু নিহত ভিকটিমের পরিবারকে অন্তত এতটুকু ন্যায়বিচারের শান্তি ও আস্থা দেওয়া রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। তদন্ত প্রতিবেদন বারবার পেছানোর এই নোংরা কালচার বন্ধ করে অবিলম্বে বিচারের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে।”

সংগঠনের সভাপতি মনি সুপান্থর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দীনা তাজরিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বি, শিশু সংগঠক রথীন চক্রবর্তী, দৈনিক খবরের পাতার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক দীপু, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা প্রদীপ ঘোষ বাবু, সিপিবির সাবেক জেলা সভাপতি হাফিজুর ইসলাম, ন্যাপের জেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা যুগ্ম সমন্বয়ক অঞ্জন দাস, বাসদের জেলা সংগঠক এস এম কাদের, মহিলা পরিষদ নেত্রী শোভা সাহা এবং সামাজিক সংগঠন সমমনার সাবেক সভাপতি দুলাল সাহা।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়