সোনারগাঁয়ে চোর সন্দেহে পিটিয়ে আহত যুবকের মৃত্যু, গ্রেপ্তার ২
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে চোর সন্দেহে পিটিয়ে গুরুতর আহত ফারুক (৪০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় এক সপ্তাহ লাইফ সাপোর্টে থাকার পর শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মা ওহেদা বেগমের করা মামলায় ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ফারুকের মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, গত ২৯ অক্টোবর বিকেলে সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুরের ললাটি এলাকার আমিনুল ভেন্ডার, তাঁর ভাগনে অমিত হাসানসহ কয়েকজন ফারুককে বাড়ি থেকে ডেকে ললাটি জনতা বাজারে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে আটকে রেখে আমিনুল ভেন্ডারের বাড়ির বৈদ্যুতিক তার চুরির অভিযোগ তোলা হয়।
একপর্যায়ে ফারুককে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রায় এক সপ্তাহ লাইফ সাপোর্টে থাকার পর শনিবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ফারুকের মা ওহেদা বেগম বাদী হয়ে আমিনুল ভেন্ডার, অমিত হাসানসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে সোনারগাঁ থানায় মামলা করেন। প্রথমে দণ্ডবিধির ৩২৬ ধারায় মামলাটি করা হয়। তবে ফারুকের মৃত্যুর পর সেটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের প্রক্রিয়া নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (৮ নভেম্বর) ঢাকায় ময়নাতদন্ত শেষে রাতে ফারুকের মরদেহ ললাটি এলাকায় নিয়ে আসা হয়।
ছেলেকে হারিয়ে অভিযুক্তদের বিচার দাবি করেছেন ফারুকের মা ওহেদা বেগম।
তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে বাজারের মধ্যে বহু মানুষের সামনে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমি অপরাধীদের বিচার চাই।’
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক জানান, দণ্ডবিধির ৩২৬ ধারায় করা মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে যারা ফারুককে মারধর করেছেন, তাঁদের আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।





































