বন্দরে সড়কজুড়ে অবৈধ ড্রেজার পাইপ, দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পথচারী ও যানবাহন
নারায়ণগঞ্জের বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি সড়কের ওপর দিয়ে অবৈধভাবে ড্রেজারের পাইপ স্থাপনের হিড়িক পড়েছে। কোথাও সড়কের ওপর লোহার ও পিভিসি পাইপ উঁচু করে রাখা হচ্ছে, আবার কোথাও রাস্তা বোরিং করে বালু পরিবহনের সংযোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সরকারি সড়ক, অন্যদিকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারী ও যানবাহন চালকদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, বন্দর ইউনিয়নের মিরকুন্ডি ও তিনগাঁও, মুছাপুরের লাঙ্গলবাজার মসজিদ সংলগ্ন এলাকা ও কালীবাড়ি, চিড়াইপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা, মদনপুরের মুরাপাড়া, ইস্টাউন ও কুড়িপাড়া, সাবদী আইসতলা, কান্দিপাড়া থেকে মাধবপাশা সড়ক, জিওধরা, নরপদী, মদনগঞ্জ ও শান্তিনগরসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কের ওপর দিয়ে ড্রেজারের পাইপ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের একটি সড়ক এবং ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের সিটি মসজিদ সংলগ্ন সড়কেও একই চিত্র দেখা গেছে।
এসব পাইপের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন তিন চাকার অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চালকরা। সড়কের ওপর উঁচু করে রাখা পাইপ এবং সংযোগস্থলে ব্যবহৃত আলগা ইট-পাথরের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পাইপের ওপর দিয়ে চলাচলের সময় ভারসাম্য হারিয়ে যানবাহন উল্টে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এতে আহত হচ্ছেন চালক ও যাত্রীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, এলাকার কিছু লোক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে এসব কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। বন্দরের বিভিন্ন সড়কে এমনিতেই গতিরোধক রয়েছে। এর ওপর ড্রেজারের পাইপ উঁচু করে রাখায় যানবাহন চলাচলে চরম অসুবিধা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেজার ব্যবসাকে কেন্দ্র করে অতীতেও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সরকার পরিবর্তনের পরও এসব কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। বরং এ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিরোধ ও প্রতিপক্ষ তৈরি হচ্ছে।
তাঁদের আশঙ্কা, সামনে শীত মৌসুমে ড্রেজার কার্যক্রম বাড়লে সড়কে জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। সম্প্রতি চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে বন্দরে ড্রেজার শ্রমিকদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া ও মারধরের অভিযোগও উঠেছিল।
এদিকে অবৈধভাবে সড়কের ওপর পাইপ স্থাপন বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, সরকারি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এ ধরনের ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ থাকা উচিত নয়।
এ বিষয়ে বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিবানী সরকার জানান, বন্দরে কোনো বৈধ বালুমহাল নেই। ফলে এখানে কোনো ড্রেজিং কার্যক্রমই বৈধ নয়।
তিনি জানান, লোহার কিংবা পিভিসি পাইপের মাধ্যমে কোথায় কোথায় সড়কের ওপর দিয়ে এসব সংযোগ নেওয়া হচ্ছে, তা খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে। জনভোগান্তির কারণ হয়, এমন কোনো কর্মকাণ্ডই বরদাস্ত করা হবে না।





































