ফতুল্লায় হোটেল ব্যবসায়ীকে আটকে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় মো. মাসুদ (৩৪) নামে এক হোটেল ব্যবসায়ীকে বাড়ির সামনে থেকে তুলে নিয়ে আটকে রেখে মারধর ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
অভিযুক্তরা হলেন ফতুল্লার নিউ হাজীগঞ্জ বাজারসংলগ্ন এলাকার মৃত দেলোয়ারের ছেলে মো. হৃদয় (৩৪), সিদ্ধিরগঞ্জের পাঠানটলি এলাকার রনি (৩৩) এবং ফতুল্লার হাজীগঞ্জ ঈদগাহ সড়ক এলাকার মিঠুন (৩৩)।
অভিযোগকারী মাসুদ নিউ হাজীগঞ্জ মাজারসংলগ্ন এলাকার মো. মুনসুর আলীর ছেলে। তিনি ওই এলাকায় একটি ভাতের হোটেল পরিচালনা করেন।
লিখিত অভিযোগে মাসুদ উল্লেখ করেন, হৃদয় অন্য অভিযুক্তদের নিয়ে প্রায়ই তাঁর হোটেলে খাবার খেয়ে টাকা না দিয়ে চলে যেতেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে টাকা দাবি করে ব্যবসা বন্ধের হুমকি দিতেন। ভয়ে তিনি কয়েক দফায় টাকা দিতে বাধ্য হন। ঘটনার তিন দিন আগে হৃদয় আবারও ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অনীহা প্রকাশ করলে তাঁকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।
মাসুদের অভিযোগ, গত ২১ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে অভিযুক্তরা তাঁর বাড়ির সামনে এসে ডাকাডাকি করেন। বাইরে বের হলে তাঁকে জোর করে একটি মিশুকে তুলে মিঠুনের বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানে হৃদয় লোহার পাইপ দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন। মাটিতে পড়ে গেলে অন্যরা পাইপ ও কাঠ দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ও একটি বাটন মোবাইল ফোনও নিয়ে নেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মাসুদকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে তাঁর পিতার কাছে ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন হৃদয়। ২১ অক্টোবর দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাঁর পিতা ২০ হাজার টাকা দিলেও তাঁকে ছাড়া হয়নি। পরে কোথায় আটকে রাখা হয়েছে জানতে পেরে রাত ১টার দিকে মাসুদের পিতা তাঁর বন্ধু রহিত ও চাচাতো ভাই পাপ্পুকে নিয়ে মিঠুনের বাড়ি থেকে তাঁকে উদ্ধার করেন।
মাসুদ জানান, উদ্ধারের পর তাঁকে খানপুরের ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে তিনি সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় অভিযোগ করেন তিনি।
এবিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রেজাউল বলেন, “আমরা অভিযোগের ভিত্তিতে এ ঘটনার তদন্ত করছি। তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হবে।”





































