যতীন সরকার স্মরণে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
প্রগতিবাদী চিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ ও প্রাবন্ধিক স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত অধ্যাপক যতীন সরকারের জীবন ও কর্ম নিয়ে নারায়ণগঞ্জে ‘বানপ্রস্থ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) শ্রুতি সাংস্কৃতিক একাডেমির উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে অধ্যাপক যতীন সরকারের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, অধ্যাপক যতীন সরকার ছিলেন অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল চিন্তার এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। ১৯৫৪ সালে ম্যাট্রিক পাসের পর অর্থের অভাবে এক বছর কলেজে ভর্তি হতে না পারলেও জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে সংগ্রামকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এগিয়ে গেছেন।
বক্তারা আরও বলেন, যতীন সরকার মার্ক্সবাদী দর্শনে বিশ্বাসী হলেও অন্ধ অনুকরণে বিশ্বাসী ছিলেন না। অসাম্প্রদায়িকতা ও বস্তুবাদী চিন্তা কেবল পশ্চিমা দর্শন থেকে এসেছে—এমন প্রচলিত ধারণাকে তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন, গৌতম বুদ্ধ, শ্রীচৈতন্য ও চার্বাক দর্শনের মধ্য দিয়েই এই ভূখণ্ডে বহু আগে অসাম্প্রদায়িকতা ও বস্তুবাদী চিন্তার ভিত্তি তৈরি হয়েছিল।
তারা বলেন, সমাজে প্রচলিত অসত্য, প্রতিক্রিয়াশীল অথচ জনপ্রিয় ধারণার বিরুদ্ধে সাহসের সঙ্গে অবস্থান নেওয়াই ছিল যতীন সরকারের চিন্তার অন্যতম বড় শক্তি। তাঁর জীবন ও কর্ম প্রগতিশীল সমাজ নির্মাণে নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা জোগাবে।
শ্রুতি সাংস্কৃতিক একাডেমির সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আলোচক ও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রফিউর রব্বি, কবি কাজল কানন, জাহিদুল দিপু, ভবানীশংকর রায় ও প্রদীপ ঘোষ। এ সময় স্থানীয় সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তিও উপস্থিত ছিলেন।





































