জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবন নিয়ে ফের আলোচনা, আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
নারায়ণগঞ্জে জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পৃথক করার বিষয়টি নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। নগরের কালিরবাজার এলাকার নতুন ভবনে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত স্থানান্তরের বিষয়টি নতুন করে সামনে আসায় পর এর বিরোধিতা করছেন আইনজীবীদের একটি অংশ। এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন ও আইনজীবীদের মতামত জানতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচিও করা হয়েছে।
সম্প্রতি পুরোনো কোর্ট ভবনে আদালত স্থানান্তরের প্রস্তাব উঠেছে দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেন জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা। তাদের দাবি, আদালত স্থানান্তরের আগে অবকাঠামো, প্রশাসনিক সুবিধা, আইনজীবীদের যাতায়াত এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের বিষয়গুলো বিবেচনা করা প্রয়োজন। একই বিষয়ে আইনজীবীদের মতামত জানতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জন্য একটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটির কাজ শেষ হওয়ার পর ৮ বছর ধরে এটি অব্যবহৃত পড়ে আছে।
আইনজীবী অধিকার রক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক অ্যাডভোকেট হাফিজ মোল্লাহ বলেন, একজন আইনজীবীকে একই দিনে একাধিক আদালতে মামলার শুনানিতে অংশ নিতে হয়। জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আলাদা জায়গায় হলে আইনজীবীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সমস্যা হবে।
তিনি বলেন, “একজন আইনজীবীর একই দিনে আট-দশটি মামলা থাকে। জেলা জজ আদালতে মামলার ডাক পড়ার পর একই সময়ে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার ডাক পড়লে একজন আইনজীবী কোথায় যাবেন, এটাই বড় প্রশ্ন।”
হাফিজ মোল্লাহ আরও বলেন, দুই আদালতের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হলে বিচারপ্রার্থীরাও ভোগান্তিতে পড়বেন। পাশাপাশি আইনজীবীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সমস্যা তৈরি হবে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে সাধারণ আইনজীবীদের নিয়ে ধাপে ধাপে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলেও তিনি জানান।
এক দশক ধরে অব্যবহৃত ৫৫ কোটি টাকার ভবন
নারায়ণগঞ্জে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জন্য নির্মিত ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ২০১১ সালের ১৫ মার্চ। তৎকালীন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ এবং প্রতিমন্ত্রী মো. কামরুল ইসলাম এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
২০১৩ সালে ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২০১৬ সালে শেষ হয়। ২০১৮ সালে তা হস্তান্তরও করে গণপূর্ত বিভাগ। এরপর কয়েক বছর পার হলেও সেখানে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়নি।
আইনজীবীদের একটি বড় অংশের অনাগ্রহের কারণে ভবনটি অব্যবহৃত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। জেলা আদালত থেকে ভবনটির দূরত্ব বেশি হওয়াকেই আদালতের কার্যক্রম শুরু না হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন তারা।
একই স্থানে আদালত রাখার দাবি পুরোনো
নারায়ণগঞ্জে জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত একই স্থানে রাখার দাবি দীর্ঘদিনের। জেলা আইনজীবী সমিতির রাজনীতিতেও বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।
২০১৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল দুটি আদালত একই স্থানে রাখার ব্যবস্থা করা। ওই নির্বাচনে ১৭টি কার্যকরী পদের মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১৩টিতে জয় পায় প্যানেলটি।
এর পরের বছর, ২০১৬ সালের ১০ মে জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও দুটি আদালত ভবন একই স্থানে রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি।
এদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পুরোনো কোর্ট ভবনে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত স্থানান্তরের আলোচনা আবার সামনে এসেছে। এ নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে নতুন করে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
এর আগে পুরোনো কোর্ট ভবনটিতে সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছিল। ফলে ভবনটির ব্যবহার নিয়ে একাধিক প্রস্তাব থাকলেও প্রায় এক দশক ধরে সেটি কার্যত অব্যবহৃতই পড়ে রয়েছে।





































