বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট নিরসন ও রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা চালুর দাবি
বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিরসন, বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো, ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা বেসরকারিকরণের উদ্যোগ বাতিল এবং বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানা পুনরায় চালুর দাবিতে নারায়ণগঞ্জে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন দলটির নেতাকর্মীরা।
বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সদস্যসচিব আবু নাঈম খান বিপ্লবের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি সেলিম মাহমুদ, বাসদ ফতুল্লা থানার সদস্যসচিব এস এম কাদির, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আক্তার এবং গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট মানুষের জীবনযাত্রা, শিল্প-কারখানার উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও জাতীয় অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমাতে বা বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।
তারা বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে অনেক বাসাবাড়িতে দিনের বেলায় রান্না করা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে শিল্প উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সংকটের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত ও সমাধান না করে বারবার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়িয়ে জনগণের ওপর সংকটের দায় চাপানো হয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পরিবহন, খাদ্য, বাসাভাড়া ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে পড়ছে। এতে শ্রমিক-কৃষকসহ সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় কমে জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, দীর্ঘদিনের ভুল পরিকল্পনা, আমদানি-নির্ভরতা, অপচয় ও দুর্নীতির পাশাপাশি দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উত্তোলনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের ঘাটতি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার না বাড়ানোর কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট গভীর হয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প-কারখানা প্রসঙ্গে তারা বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান জনগণের সম্পদ। বছরের পর বছর অবহেলা, দুর্নীতি, ভুল ব্যবস্থাপনা ও প্রয়োজনীয় সরকারি বিনিয়োগের অভাবে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে কিংবা লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এখন এসব প্রতিষ্ঠানকে বেসরকারি বিনিয়োগের আওতায় দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নেতারা বলেন, ৪৪টি বন্ধ, লোকসানি বা আংশিক চালু রাষ্ট্রীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে দেশি-বিদেশি বেসরকারি বিনিয়োগের আওতায় আনার উদ্যোগ জনগণের স্বার্থবিরোধী। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে বেসরকারিকরণের পথে ঠেলে দেওয়া কোনো সমাধান নয়। এসব প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জমি, অবকাঠামো, যন্ত্রপাতি ও উৎপাদন সক্ষমতা রাষ্ট্রীয় মালিকানায় রেখে আধুনিকায়ন করতে হবে।
তারা আরও বলেন, জনগণের সম্পদ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মুনাফার উৎস হতে পারে না। রাষ্ট্রীয় শিল্পের জমি, অবকাঠামো ও অন্যান্য সম্পদ বেসরকারি স্বার্থে হস্তান্তর না করে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় উৎপাদনশীল শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।





































