ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণের সুযোগে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জ শহরে অবৈধ ইজিবাইক চলাচল বন্ধে কড়াকড়ির সুযোগে বৈধ ইজিবাইক ও মিশুক চালকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। আগে যেসব পথে ১০ টাকা ভাড়া নেওয়া হতো, এখন একই দূরত্বে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও ভাড়া দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন নিয়মিত যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রীরা।
যাত্রীদের অভিযোগ, নগরীতে ইজিবাইক চলাচল নিয়ন্ত্রণের পর থেকে কিছু চালক নিজেদের ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করছেন। বিশেষ করে সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইজিবাইক ও মিশুক চালকদের একাংশের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ বেশি উঠছে। অতিরিক্ত ভাড়ার প্রতিবাদ করলে চালকদের সঙ্গে যাত্রীদের বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটছে।
নগরীর মেট্রো হল মোড় থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত আগে মিশুকে জনপ্রতি ভাড়া ছিল ৫ টাকা। বর্তমানে একই পথে চারজন করে যাত্রী নিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অর্থাৎ এই পথে যাত্রীদের দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে।
শুধু শহরের ভেতরেই নয়, শহরতলির বিভিন্ন সড়কেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অনেক ইজিবাইক নির্ধারিত পথের পরিবর্তে ঘুরপথে শহরে প্রবেশ করছে। এতে যাত্রীদের অতিরিক্ত সময় ব্যয়ের পাশাপাশি বাড়তি ভাড়াও দিতে হচ্ছে।
এদিকে চিটাগাংরোড-আদমজী-চাষাঢ়া সড়কে চলাচলকারী ছয় আসনবিশিষ্ট ইজিবাইকগুলোকে আগে নগরীর মিশনপাড়া পর্যন্ত প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে এসব ইজিবাইক মেট্রো হল মোড়ে আটকে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
ফলে সিদ্ধিরগঞ্জ ও আদমজী থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরে আসা যাত্রীদের মেট্রো হল মোড়ে নেমে অন্য যানবাহনে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। এতে একদিকে যাতায়াতের খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে ভোগান্তিও বেড়েছে।
ভুক্তভোগী যাত্রীদের দাবি, চিটাগাংরোড ও আদমজীগামী ছয় আসনের ইজিবাইকগুলোকে আগের মতো মিশনপাড়া পর্যন্ত চলাচলের অনুমতি দেওয়া হলে তাঁদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যাত্রীরা। একই সঙ্গে নগরীতে চলাচলকারী ইজিবাইক ও মিশুকের ভাড়া নির্ধারণ এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি অমিত হাসান এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘নারায়ণগঞ্জের যে সকল মিশুক ও অটোওয়ালারা সিটি লাইসেন্স পেয়েছে, তারা যেন হাতির পাঁচ পা দেখে ফেলেছে! কিছু ক্ষেত্রে দ্বিগুণ ভাড়া চাচ্ছে! গেলে যান, না গেলে নাই!’
একই পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, নবীগঞ্জ ঘাট থেকে মিশনপাড়া পর্যন্ত মিশুকে তাঁর কাছ থেকে ৬০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়েছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিকল্প যাতায়াতব্যবস্থা ও ভাড়া নির্ধারণের বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। ফলে কিছু চালক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন।
তাঁরা বলছেন, নগরীর যানজট নিরসন ও পরিবহনব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ অবশ্যই প্রয়োজন। তবে সেই উদ্যোগের কারণে সাধারণ যাত্রীরা যাতে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ ও ভোগান্তির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
এ জন্য সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ইজিবাইক ও মিশুকের পথভিত্তিক ভাড়া নির্ধারণ, নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা প্রকাশ এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে কার্যকর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।





































