মদনপুরে একতা সুপার মার্কেট দখল-ভাঙচুরের অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মদনপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ‘একতা সমবায় সুপার মার্কেট’ দখল, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ করেছেন সমিতির নেতারা। একই সঙ্গে এ ঘটনায় বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি বলে দাবি করেছেন তারা।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে মার্কেটের শান্তিপূর্ণ ব্যবসায়িক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং বৈধ কমিটির হাতে পরিচালনার দায়িত্ব নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন বলেন, ১৯৯৭ সালে মদনপুর এলাকার ১০১ জন ব্যক্তি ১১৮ শতাংশ জমি কেনেন। পরে ২০০০ সালে ‘একতা সমবায় সুপার মার্কেট মালিক বহুমুখী সমবায় সমিতি’ নামে প্রতিষ্ঠানটি সমবায় কার্যালয় থেকে নিবন্ধন পায়। এর নিবন্ধন নম্বর ৩৩৬।
তিনি দাবি করেন, সমবায় আইন অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর ১২ সদস্যের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন হয়ে আসছে। বর্তমান কমিটির মেয়াদ ২০২৪ সালের ১৯ জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের ছেলে আবুল কাউসার আশা সমিতির কার্যালয়ে এসে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে সেই প্রস্তাব উপেক্ষা করে একটি পক্ষ বহিরাগতদের নিয়ে মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেন সমিতির নেতারা।
তাদের অভিযোগ, গত ২৩ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে হীরা লাল দাস, আমিনুল ইসলাম, এসহাক কবির ও তাওলাত হোসেনের নেতৃত্বে শতাধিক লোক সমিতির কার্যালয়ে প্রবেশ করে। এ সময় নির্বাচিত কমিটির সদস্যদের লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর এবং নগদ প্রায় ১০ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তারা। বর্তমানে মার্কেটটি ওই পক্ষের দখলে রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
আব্দুল মতিন আরও দাবি করেন, এর আগে সমিতির কয়েকজন সদস্য বর্তমান কমিটির বৈধতা ও আর্থিক অনিয়ম নিয়ে সমবায় অধিদপ্তরে অভিযোগ করেছিলেন। তদন্তে সেসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি এবং পরবর্তী সময়ে এ-সংক্রান্ত একাধিক মামলাও খারিজ হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, মার্কেটের দখল নিয়ে এর আগেও বিএনপি নেতা হিরনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। বর্তমানে তার সঙ্গে খলিল মেম্বারও যুক্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন সমিতির নেতারা।
তারা জানান, এ ঘটনায় পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংসদ সদস্যের ছেলে আবুল কাউসার আশার কাছেও বিরোধের সুষ্ঠু সমাধান চাওয়া হয়েছে।
সমিতির নেতাদের অভিযোগ, বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। মার্কেটের শান্তিপূর্ণ ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত এবং বৈধ কমিটির হাতে পরিচালনার দায়িত্ব ফিরিয়ে দিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং সদস্য দুলাল মিয়া, জহিরুল ইসলাম ও আবুল হোসেন।





































