বন্দরে প্রবাসীর স্ত্রীকে খুনে ফাঁসির আসামির সাজা কমলো
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যার দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. আব্দুর রহমানের (৫৯) সাজা কমিয়েছে হাইকোর্ট। রোববার (১ নভেম্বর) বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথিকা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স ও আসামির আপিলের শুনানি শেষে এ রায় দেন।
আদালত তার মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আল আমীন সিদ্দিকী।
একই সঙ্গে ওই আসামিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী নিশা বেগম নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ এলাকার কাতারপ্রবাসী তাজুল ইসলামের স্ত্রী ছিলেন। দণ্ডিত আসামি আব্দুর রহমান ছিলেন তাজুল ইসলামের ভগ্নিপতি (নিশার ননদের স্বামী)।
২০১৪ সালের ৮ ডিসেম্বর রাতে নিজ ঘরে ছুরিকাঘাতে খুন হন নিশা। দু’দিন পর নিহতের ছোটভাই মো. রাব্বি মিয়া বাদী হয়ে রহমানকে আসামি করে বন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আবদুর রহমান নিশা বেগমকে প্রায়ই কুপ্রস্তাব দিতেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তাকে ঘরে একা পেয়ে জড়িয়ে ধরেন এবং কুপ্রস্তাব দেন। ওই নারী তাকে প্রত্যাখ্যান করলে বুকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান।
পরে নিশাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
৪ বছর পর ২০১৯ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ শেখ রাজিয়া সুলতানা আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়ে রায় ঘোষণা করেন।
পরবর্তীতে আসামির মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে আসে। একই সঙ্গে রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষও আপিল দায়ের করে। উভয় আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট আসামির মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আল আমীন সিদ্দিকী বলেন, “রাষ্ট্রপক্ষ আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের প্রত্যাশা ছিল নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডই বহাল থাকবে।”রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাবে বলেও জানান তিনি।





































