ফতুল্লার ইউনাইটেড অ্যাপারেল চালু ও বকেয়া পরিশোধের দাবিতে বিক্ষোভ
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বন্ধ থাকা ইউনাইটেড অ্যাপারেল কম্পোজিট লিমিটেড অবিলম্বে চালু, দুই মাসের বকেয়া মজুরি পরিশোধ এবং চাকরির নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিতের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছেন শ্রমিকরা।
রোববার (১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে শ্রমিকরা শহরের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় তাঁরা কারখানা চালু, বকেয়া মজুরি পরিশোধ ও কর্মসংস্থান নিশ্চিতের দাবিতে স্লোগান দেন।
কারখানার শ্রমিক সাবিনা আক্তারের সভাপতিত্বে সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি সেলিম মাহমুদ, সহসভাপতি হাসনাত কবির, সহসাধারণ সম্পাদক নুর হোসেন সর্দার, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা সভাপতি রুহুল আমিন সোহাগ, গাবতলী-পুলিশ লাইন শিল্পাঞ্চল শাখার সহসভাপতি শহিদুল ইসলাম এবং কারখানার শ্রমিক লিটন ও সুমন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ইউনাইটেড অ্যাপারেল কম্পোজিট লিমিটেড বন্ধ রেখেছে। দীর্ঘদিন ধরে কারখানা বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের মজুরি বকেয়া থাকায় শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
তাঁরা বলেন, দুই মাসের বেতন না পাওয়ায় শ্রমিকদের বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, সন্তানের লেখাপড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকে ধারদেনা করে সংসার চালাচ্ছেন। দীর্ঘদিনের কর্মস্থল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নতুন কাজ পাওয়ার অনিশ্চয়তাও তাঁদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, শ্রমিকদের মজুরি কোনো দয়া বা অনুদান নয়, বরং তাঁদের শ্রমের বিনিময়ে অর্জিত আইনগত অধিকার। মালিকপক্ষের ব্যবসায়িক সংকট বা অন্য কোনো কারণে কারখানা বন্ধ থাকলেও শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই।
তাঁদের অভিযোগ, শ্রমিকরা তাঁদের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, বিকেএমইএ এবং শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত সমস্যা সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
সমাবেশ থেকে কারখানা অবিলম্বে চালু করে শ্রমিকদের কাজে যোগদানের সুযোগ দেওয়া, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের বকেয়া মজুরি সম্পূর্ণ পরিশোধ, চাকরির নিরাপত্তা ও নিয়মিত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে শ্রমিকদের হয়রানি, ভয়ভীতি ও চাকরিচ্যুতির চেষ্টা বন্ধ এবং শ্রম আইন অনুযায়ী সব পাওনা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তাঁরা।
বক্তারা বলেন, কারখানা চালু রাখা সম্ভব না হলে শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের সব পাওনা ও আইনগত ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করতে হবে। অবিলম্বে দাবি বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলারও হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।





































