ত্বকী হত্যা মামলার ১০৭তম তারিখ পার, এখনো জমা পড়েনি অভিযোগপত্র
তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলার ১০৭তম ধার্য তারিখ পার হলেও আদালতে অভিযোগপত্র জমা পড়েনি। এদিকে আদালতের আগের আদেশের পরও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে দেখা করেননি অন্যতম আসামি রিফাত বিন ওসমান। এ কারণে তাঁকে নিজস্ব আইনজীবীসহ তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (১ নভেম্বর) মামলার ধার্য তারিখে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এম সাইফুল ইসলাম এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী প্রদীপ ঘোষ বাবু ও আবু ইশতিয়াক সিদ্দিকী।
মামলায় মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গতকালের ধার্য তারিখে আজমেরী ওসমানের গাড়িচালক জমশেদ কারাগার থেকে আদালতে হাজিরা দেন।
জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আদালতে হাজির না হওয়ায় আসামি সুলতান শওকত ভ্রমর, সালেহ রহমান সীমান্ত ও আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।
অন্যদিকে জামিনে থাকা আসামি তায়েফ উদ্দীন জ্যাকি, ইউসুফ হোসেন লিটন, কাজল হাওলাদার, সাফায়েত হোসেন শিপন, ইয়ার মোহাম্মদ পারভেজ ও রিফাত বিন ওসমান আদালতে সশরীরে হাজিরা দেন।
মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৪ ডিসেম্বর।
এর আগে ১০৬তম ধার্য তারিখে তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রিফাত বিন ওসমানকে তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে দেখা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। মামলাটির তদন্ত করছেন র্যাব-১১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপক চন্দ্র মজুমদার।
২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরের শায়েস্তা খাঁ সড়কের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দুই দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় সুলতান শওকত ভ্রমর ও ইউসুফ হোসেন লিটনসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১১। তাঁদের মধ্যে ভ্রমর ও লিটন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তাঁরা জানান, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছিল।
২০১৪ সালের ৫ মার্চ র্যাব এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাদের টর্চার সেলে আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছে। একই সঙ্গে শিগগিরই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার কথা জানায় সংস্থাটি। তবে সেই অভিযোগপত্র এখনো জমা পড়েনি।
ত্বকী হত্যাকাণ্ডের পর থেকে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট প্রতি মাসের ৮ তারিখে ঘাতকদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মোমশিখা প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করে আসছে।





































