০২ নভেম্বর ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২২:১২, ১ নভেম্বর ২০২৬

রেড ক্রিসেন্টের নির্বাচন ত্রুটিপূর্ণ ছিল, অভিযোগ প্রার্থী হারুনের

রেড ক্রিসেন্টের নির্বাচন ত্রুটিপূর্ণ ছিল, অভিযোগ প্রার্থী হারুনের

নারায়ণগঞ্জ রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন আয়োজনের সময়সীমা ও ভোটার তালিকার ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাসাস নেতা ও নির্বাচনে সদস্য পদে পরাজিত প্রার্থী মো. হারুন অর রশিদ খান মুকুল।

রোববার (১ নভেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এসব অভিযোগ জানান।

হারুন অর রশিদ খান বলেন, রেড ক্রিসেন্টের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন বর্তমান ইউনিটের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। এ নির্বাচনের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব তাঁর বলে মনে করেন তিনি।

তবে নির্বাচন আয়োজনের বিভিন্ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে হারুন বলেন, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নয়; এটি একটি আন্তর্জাতিক সেবামূলক সংস্থা। এখানে ভোটার সংখ্যা এক হাজারেরও কম। কিন্তু ভোটার তালিকাটি হালনাগাদ ছিল না।

তাঁর অভিযোগ, তালিকায় থাকা অনেক সদস্য ইতোমধ্যে মারা গেছেন। অনেকে বয়সের ভারে শয্যাশায়ী, আবার অনেকে ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন। অধিকাংশ সদস্যের মোবাইল নম্বর না থাকায় চিঠিই ছিল যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। কিন্তু সেই চিঠিও বেশির ভাগ সদস্যের কাছে পৌঁছায়নি।

এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনের জন্য আরও সময় নেওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি। হারুনের অভিযোগ, নির্বাচন হচ্ছে—এমন খবর অনেক সদস্যই জানতে পারেননি। পর্যাপ্ত সময় না নিয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের পেছনে কোনো চাপ ছিল কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

ভোটার তালিকার ত্রুটি তুলে ধরে তিনি বলেন, তালিকায় ভোটারের নিজের নাম, বাবার নাম ও মায়ের নামে ভুল ছিল। এসব ত্রুটির কারণে তালিকা দেখে নিজের নাম ও বাবার নাম বলতে পারা ব্যক্তিরাই ভোট দিতে পেরেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। ভোটারের পরিচয় যাচাইয়ের যথাযথ ব্যবস্থা ছিল না বলেও দাবি করেন হারুন।

তিনি বলেন, ভোটারদের পরিচয় নিশ্চিত করতে জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা রেড ক্রিসেন্টের পরিচয়পত্র যাচাইয়ের ব্যবস্থা করা যেত। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় তাঁরা প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। কিন্তু তা কেন বাস্তবায়ন করা হয়নি, তা তাঁদের জানা নেই।

হারুন আরও বলেন, ওই সভায় প্রার্থীদের নামের আদ্যাক্ষর অনুযায়ী সিরিয়াল নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু তা অনুসরণ করা হয়নি। কার ইচ্ছায় বা প্ররোচনায় এভাবে সিরিয়াল করা হয়েছে, তা তাঁদের বোধগম্য নয়।

নির্বাচনের দিনের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। এতে ভোট পড়ে মাত্র ৩৩৮টি। তাঁর অভিযোগ, ভোটারদের পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই না করায় অসংখ্য জাল ভোট পড়েছে।

ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হারুন। তাঁর ভাষ্য, ভোটকেন্দ্রের গেটের বাইরে সাধারণ মানুষ এবং ভেতরে শুধু ভোটার ও প্রার্থীদের থাকার নিয়ম করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রের ভেতরে এত বেশি মানুষের উপস্থিতি ছিল যে কারা ভোটার, প্রার্থী কিংবা নির্বাচনী এজেন্ট, তা চেনা কঠিন হয়ে পড়ে। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এমন দৃশ্য দেখা গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, জেলা পরিষদের সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে দোতলা ও তিনতলাসহ বিভিন্ন জায়গায় মানুষের ভিড় ছিল। পরিস্থিতি দেখে কোনোভাবেই মনে হয়নি এটি একটি ভোটকেন্দ্র। এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশন হয়তো অসহায় ছিল, অথবা পক্ষপাতদুষ্ট ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এত অনিয়মের পরও নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে মন্তব্য করা হয়েছে উল্লেখ করে হারুন বলেন, নির্বাচনে হার-জিত থাকবেই। তিনি পরাজিত হয়েছেন, এতে তাঁর কোনো ক্ষোভ বা দুঃখ নেই। তাঁর আপত্তি নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া নিয়ে। সব ভোটারকে অবহিত না করে এত স্বল্প সময়ে এভাবে নির্বাচন আয়োজন সঠিক পদ্ধতি ছিল না বলে মনে করেন তিনি।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়