১৫ অক্টোবর ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৯:৫৫, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৯:৫৬, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

বন্দরে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে প্রতিবন্ধী মেয়েসহ মাকে মারধরের অভিযোগ

বন্দরে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে প্রতিবন্ধী মেয়েসহ মাকে মারধরের অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে শারীরিক প্রতিবন্ধী এক নারীকে মারধর এবং তাঁর মাকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে এ হামলা ও হুমকির ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী হাফেজা (৪৩)।

গত শনিবার (১০ অক্টোবর) উপজেলার লাঙ্গলবন্দের বাক্সরাইল এলাকায় পৃথক সময়ে এসব ঘটনা ঘটে বলে বন্দর থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় হাফেজা বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে একই এলাকার মৃত শাহাবুদ্দিনের ছেলে মো. ইকবাল (৪৮), মো. দেলোয়ার (৪০), লাভলি (৩৯) এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হাফেজার মেয়ে হ্যাপি (২৮) শারীরিক প্রতিবন্ধী ও স্ট্রোকের রোগী। জমিজমা নিয়ে হ্যাপি ও তাঁর স্বামী মো. সাকিলের সঙ্গে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। হাফেজার দাবি, মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে তাঁদের পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।

হাফেজা অভিযোগ করেন, গত ১০ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাঁর মেয়ে হ্যাপি লাঙ্গলবন্দের বাক্সরাইল এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় হ্যাপির স্বামী নাশতা আনতে বাইরে গেলে অভিযুক্তরা বাড়িতে প্রবেশ করে তাঁকে চুলের মুঠি ধরে মারধর করেন। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। ঘটনাটি কাউকে জানালে তাঁকে ও পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

একই দিন সকাল ১১টার দিকে অভিযুক্তরা হাফেজার বাড়িতে প্রবেশ করে তাঁকেও মারধর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। হাফেজার দাবি, এ সময় লাভলি তাঁর চুলের মুঠি ধরে টানাহেঁচড়া করেন। মারধরের একপর্যায়ে তাঁর জামাকাপড় ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করা হয়।

হাফেজার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাঁকে, তাঁর মেয়ে ও জামাতাকে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাদক দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানি করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।

পরে স্থানীয় লোকজন আহত মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য পাঠান।

হাফেজা তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়