৩১ আগস্ট ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২১:৫৬, ৩০ আগস্ট ২০২৬

বিদ্যুৎ-সার সংকট নিয়ে সমাবেশে হামলার প্রতিবাদে বাসদের বিক্ষোভ

বিদ্যুৎ-সার সংকট নিয়ে সমাবেশে হামলার প্রতিবাদে বাসদের বিক্ষোভ

সিরাজগঞ্জে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সমাবেশে হামলার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে দলটির জেলা শাখা। একই সঙ্গে রংপুরে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘মব’ তৈরি করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধের প্রতিবাদ জানানো হয়।

রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১০টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন দলটির নেতাকর্মীরা।

বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সদস্যসচিব আবু নাঈম খান বিপ্লবের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, বাসদ ফতুল্লা থানার সদস্যসচিব এস এম কাদির, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আক্তার, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক প্রদীপ সরকার এবং গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ।

সমাবেশে নেতারা বলেন, গত ২৮ আগস্ট সিরাজগঞ্জের পিপুলবাজারে বিদ্যুৎ ও সার সংকট সমাধানের দাবিতে বাসদের সমাবেশে বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালান। এতে বাসদ সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক নব কুমার কর্মকার, বাসদ নেতা পলাশ, সাইফুল, আজিজ, ইব্রাহীমসহ ১০ জন নেতাকর্মী আহত হন বলে দাবি করেন তারা।

বক্তারা বলেন, “স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা দমন-পীড়ন ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে বিরোধী আন্দোলন দমিয়ে রেখেছিলেন। এর পরিণতিতে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তাঁর পতন ও দেশত্যাগ হয়েছে। অথচ সদ্য নির্বাচিত বিএনপি সার ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে কথা বলায় বাসদের সমাবেশে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালিয়ে আন্দোলন স্তব্ধ করার পথ অবলম্বন করেছে। এই ঘটনা আমাদের আওয়ামী স্বৈরাচারের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।”

তারা বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। হত্যা, ধর্ষণ, হামলা, ছিনতাই ও মবের ঘটনা বেড়েছে। রংপুরে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে দাবি করেন তারা। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান বক্তারা।

দেশের বিভিন্ন স্থানে মব তৈরি করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধেরও প্রতিবাদ জানান তারা। বক্তারা বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ লাইন্সে পুলিশের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তথাকথিত ‘তৌহিদী জনতার’ নামে মব তৈরি করে হামলা ও অনুষ্ঠান বন্ধের ঘটনা ঘটেছে। একইভাবে কিশোরগঞ্জেও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনাকে আলাদা হিসেবে দেখার সরকারি বক্তব্যের সমালোচনা করে বক্তারা প্রশ্ন রাখেন, “ব্রাহ্মণবাড়িয়া কি বাংলাদেশের বাইরে? সেখানে কি দেশের আইন আলাদা?”

সমাবেশ থেকে সিরাজগঞ্জে বাসদের সমাবেশে হামলাকারীদের, গণপতি চক্রবর্তী পরিবারের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের এবং মব সৃষ্টিকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান বাসদ নেতারা।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়