২৯ আগস্ট ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২০:১৫, ২৮ আগস্ট ২০২৬

ফুলবাড়ীতে হাত দিলে পরিনতি সুখকর হবেনা: রফিউর রাব্বি 

ফুলবাড়ীতে হাত দিলে পরিনতি সুখকর হবেনা: রফিউর রাব্বি 

তেল-গ্যাস খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির নারায়গঞ্জ জেলার আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি বলেছেন, দিনাজপুরে ফুলবাড়ীর কয়লা নিয়ে এশিয়া এনার্জির সাথে পূর্বে যে চুক্তি হয়েছিল, তা জনরোষের কারণে টিকতে পারেনি। আমরা লক্ষ করছি এখন আবার সেই এশিয়া এনার্জি ভিন্ন নামে ফিরে এসেছে। চুক্তিতে বলা হয়েছিল উন্মুক্ত পদ্ধতিতে সেখান থেকে কয়লা উত্তোলন করা হবে। এর ফলে ওই এলাকার প্রাণপ্রকৃতি ধ্বংস হতো। তবে তার চেয়ে আত্মঘাতী বিষয়টি হলো, উত্তোলন করা কয়লার ৯৪ শতাংশ তারা নেবে এবং মাত্র ৬ শতাংশ বাংলাদেশ নেবে। এটা তো কোনো পাগলও মেনে নেবে না। কিন্তু বহুজাতিক কোম্পানি জানে বাংলাদেশে যেই সরকার আসুক, তাদের মধ্যে লুটেরারা থাকবেই। এই লুটেরাদের সাথেই মিলে আজকে আমাদের অর্থমন্ত্রী বলে, আমাদের এর বিকল্প কোনো পথ নেই। সরকারকে বলতে চাই, আপনার পাগল মন্ত্রী আমলাদের বলেন দিনাজপুরে হাত না দেওয়ার জন্য। এই শিক্ষা ২০ বছর আগে আপনাদের হয়েছিল। সেখানে হাত দিলে এর পরিণতি খুব সুখকর হবে না। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে ফুলবাড়িয়া থেকে কয়লা উত্তোলন বন্ধ করেন।

শুক্রবার (২৮ আগষ্ট) বিকেল ৫ টায় ফুলবাড়ী আন্দোলনের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তেল-গ্যাস খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে এ কথা বলেন রফিউর রাব্বি। 

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের তিনদদিন আগে ইউনুস সরকারের সাথে আমেরিকার যেই চুক্তি হয়েছে, এখানে সবাই বলেছে এটা আত্মঘাতী গোলামি চুক্তি। আসলে চুক্তিটা কী? চুক্তিটা হচ্ছে, আমাদের খাদ্য হোক, যা-ই হোক, জিনিসপত্র হোক সবকিছু আমরা আমেরিকার ওপর দারস্থ থাকব। আমেরিকাকে না জানিয়ে অন্য কোনো জায়গা থেকে কিছু কিনতে পারব না। ২৬ লাখ টন সয়াবিন নিতে হবে আমেরিকার কাছ থেকে। এটা অবশ্য ইতিপূর্বেও আমরা নিয়েছি। ৭ লাখ টন গম নিতে হবে, আমরা আগেও নিয়েছি। কিন্তু চুক্তিতে যে বিষয়টি উল্লেখযোগ্য তা হচ্ছে, আমরা এতদিন এই দ্রব্য আমেরিকা থেকে নিয়েছি ১০০ কোটি ডলারে, চুক্তি অনুযায়ী তা নিতে হবে ৩৫০ কোটি ডলারে। এর কোনো ব্যত্যয় হওয়া যাবে না।"

তিনি আরও বলেন, "এই যে আত্মঘাতী চুক্তি, তাদের কাছ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কিনতে হবে, বিমান কিনতে হবে, জ্বালানি তেল তাদের কাছ থেকে কিনতে হবে, বাইরে থেকে নেওয়া যাবে না। যদি কোনো দেশ থেকে নিতে হয়, আমেরিকার অনুমতি নিয়ে নিতে হবে। ট্রাম্পের এই গণবিরোধী, দেশবিরোধী চুক্তির বিরুদ্ধে তাদের আদালত একটি অর্ডার দিয়েছে। তারা বলেছে, এই রকম চুক্তি করা যায় শুধু জরুরি অবস্থার সময়, বিশেষ প্রয়োজনে। স্বাভাবিকভাবে এই চুক্তি করা যায় না এবং এই চুক্তি করার অধিকার আমেরিকার প্রেসিডেন্টের নেই। আমেরিকা এভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। এমন চুক্তি মালয়েশিয়ার সাথেও তারা করেছিল, মালয়েশিয়া সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছে। আমরা বলতে চাই, এই আত্মঘাতী চুক্তি থেকে বাংলাদেশকে বেরিয়ে আসতে হবে।"

রফিউর রাব্বি বলেন, "এতবড় একটা আত্মঘাতী চুক্তি, যা নিয়ে বিদেশে পর্যন্ত আলোচনা হচ্ছে, সংসদে একটিবারও এই চুক্তিটা নিয়ে তারা কথা বলার পর্যন্ত প্রয়োজন মনে করেনি। কেন? এই বিএনপি-জামায়াত যারাই ক্ষমতায় থাকুক, তারা সবাই আমেরিকার তল্পিবাহক এবং তাদের সহযোগিতায় তারা ক্ষমতায় থাকতে চায়। আমাদের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত। ভারতে সহযোগিতা নিয়ে শেখ হাসিনা ধরাকে সরা জ্ঞান করেছিল। জনগণ লাগবে না, ভোট লাগবে না, ভারত আছে আমাদের আপনারা সেই পথেই হাঁটছেন।"

তিনি বলেন, "আমরা বলব, আমেরিকা আমাদের বন্ধু না। আমাদের বিরুদ্ধে তারা সপ্তম নৌবহর পাঠিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী আজকে বলেন, সবার আগে বাংলাদেশ। আমরা এর বাস্তবায়ন দেখতে চাই। আপনি আমেরিকার স্বার্থ রক্ষার জন্য কতটা আন্তরিক, আর বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য কতটা আন্তরিক, আমরা তা দেখতে চাই। আমি এই বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করেন। 

সংগঠনের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বির সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব ধীমান সাহা জুয়েলের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, সাংষ্কৃতিক জোটের সভাপতি মনি সুপান্থ, সমমনার উপদেষ্টা দুলাল সাহা, বাসদের জেলার সদস্য সচিব আবু নাঈম খান বিপ্লব, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্যয  হাফিজুল ইসলাম প্রমুখ।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়