দুই বছর পর নতুন সাজে চালু হচ্ছে ডিসি থিম পার্ক
গণঅভ্যুত্থানের সময় ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর নতুন সাজে চালু হতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের ‘ডিসি থিম পার্ক’। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের পাশে অবস্থিত পার্কটির সংস্কারকাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ২৮ থেকে ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কারকাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কর ও ভ্যাটসহ মোট প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় ৪০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।
মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের ইকোট্যুরিজমকে এগিয়ে নিতে ২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ পার্কটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর এটি নগরবাসীর বিনোদন ও অবসর সময় কাটানোর অন্যতম স্থান হয়ে ওঠে। বিশেষ করে জেলা জজ ও ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে আসা বিচারপ্রার্থীরাও পার্কটি ব্যবহার করতেন।
সংস্কারের আগে পার্কটিতে নান্দনিক ল্যান্ডস্কেপ, জামদানি ফোয়ারাসহ জলাধার, জলাধারের ওপর সেতু, রঙিন মাছ, অ্যাম্ফিথিয়েটার ও শিশু কর্নার ছিল। দেয়ালে মুক্তিযুদ্ধ, নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চিত্রও প্রদর্শন করা হয়েছিল।
তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় দুর্বৃত্তদের ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডে পার্কটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকেই এটি বন্ধ ছিল।
বর্তমান সংস্কারে পার্কটির নকশায় কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ভেঙে ফেলা অংশগুলোর সংস্কারকাজ চলছে। এরই মধ্যে নতুন থিম তৈরি করা হয়েছে। পার্কের মাঝখানে থাকা নৌকার স্থানে এবার লাঙ্গল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আগের কিছু স্থাপনাতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক জানান, আগে পার্কের একটি অংশে নির্দিষ্ট একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মূর্তি ও স্থাপনা ছিল। এবার সেখানে দেশের সব ধর্মের মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের সম্প্রীতির চিত্র তুলে ধরা হবে, যাতে কোনো একটি সম্প্রদায়ের একক উপস্থিতি না থাকে।
জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, দ্রুত বর্ধনশীল নারায়ণগঞ্জ শহরে জনসাধারণের জন্য খোলা জায়গা ও বিনোদনের স্থান খুবই সীমিত। তাই নগরবাসীর জন্য একটি সুন্দর ‘ব্রিদিং স্পেস’ তৈরি করতেই নতুন করে ডিসি থিম পার্ক সাজানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, “মানুষ যাতে একটু ঘোরাফেরা করতে পারে, সবুজ দেখতে পারে এবং শিশুদের নিয়ে সুন্দর পরিবেশে সময় কাটাতে পারে। সেই উদ্দেশ্যেই পার্কটিকে নতুন করে সাজানো হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, পার্কে শিশুদের জন্য বিভিন্ন রাইড, প্রাকৃতিক দৃশ্যের সমন্বয়ে সৌন্দর্যবর্ধন এবং আধুনিক নাগরিক সুবিধা যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি একটি আধুনিক মানের কফি শপ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
জেলা প্রশাসক জানান, সংস্কারকাজে জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন উৎস থেকে সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্যভাবে অর্থের সংস্থান করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ২৮ থেকে ৩০ লাখ টাকার মধ্যে মূল কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। ভবিষ্যতে আরও সৌন্দর্যবর্ধনের প্রয়োজন হলে বাজেট প্রাপ্তির ভিত্তিতে অতিরিক্ত কাজ করা হবে।
দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ শেষ করে পার্কটি আবারও সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক। একই সঙ্গে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের সৌন্দর্য এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশও পার্কটির মাধ্যমে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলে জানান তিনি।





































