২৯ আগস্ট ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২১:৩৫, ২৮ আগস্ট ২০২৬

নজরুলের অসাম্প্রদায়িক ও সাম্যবাদী চেতনা আজও প্রাসঙ্গিক: চারণ

নজরুলের অসাম্প্রদায়িক ও সাম্যবাদী চেতনা আজও প্রাসঙ্গিক: চারণ

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টায় শহরের ২ নম্বর রেলগেট এলাকার বাসদ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক প্রদীপ সরকারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি নিখিল দাস। আরও বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা ভবানী শংকর রায়, বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা সদস্য সচিব আবু নাঈম খান বিপ্লব, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মনি সুপান্থ এবং চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য সেলিম আলাদিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা শাখার সদস্য সচিব জামাল হোসেন।

বক্তারা বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম শুধু প্রেম ও বিদ্রোহের কবি নন; তিনি অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য, শোষণ, নিপীড়ন ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠ ছিলেন। মানুষের মুক্তি, মর্যাদা ও সাম্যের আকাঙ্ক্ষা তাঁর সাহিত্য ও জীবনচর্চার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা তাঁর বিভিন্ন রচনা ও বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে।

তারা বলেন, দারিদ্র্যের বাস্তবতার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা নজরুল ব্রিটিশ-পরিচালিত ৪৯ নম্বর বেঙ্গলি রেজিমেন্টে সৈনিক হিসেবে যোগ দেন। করাচি সেনানিবাসে অবস্থানকালে অবসর সময়ে সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। পরবর্তীতে কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদের সাহচর্য তাঁর চিন্তা ও সাহিত্যচর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করে। শ্রমজীবী ও নিপীড়িত মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা তাঁর কবিতা ও গানে ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

বক্তারা নজরুলের ‘সাম্যের গান’, ‘সাম্যবাদী’, ‘সর্বহারা’, ‘শ্রমিকের গান’, ‘লাল পতাকার গান’ ও ‘ধীবরের গান’সহ বিভিন্ন রচনায় শ্রমজীবী মানুষের জীবন, সংগ্রাম ও শ্রেণিচেতনার প্রতিফলনের কথা তুলে ধরেন। ১৯২৭ সালে মে দিবস উপলক্ষে নজরুল শ্রমজীবী মানুষের আন্তর্জাতিক সংগীত ‘ইন্টারন্যাশনাল’-এর বঙ্গানুবাদ করেন বলেও তারা উল্লেখ করেন।

নজরুলের অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রসঙ্গ তুলে বক্তারা বলেন, ধর্ম, জাত, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখতে চেয়েছেন। হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের পক্ষে তাঁর অবস্থান বিভিন্ন কবিতা, গান ও বক্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে।

বক্তারা বলেন, নজরুলের কলম শোষিত, বঞ্চিত ও নিপীড়িত মানুষের পক্ষে সোচ্চার ছিল। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন, অন্যায়, শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে তাঁর সাহিত্য ছিল প্রতিবাদী। তাঁর বিদ্রোহ ছিল অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে এবং মানুষের মুক্তির পক্ষে।

তারা আরও বলেন, সময়ের সঙ্গে সমাজে অনেক পরিবর্তন এলেও শোষণ, বৈষম্য, দারিদ্র্য, সাম্প্রদায়িকতা ও নিপীড়নের নানা রূপ এখনো বিদ্যমান। এ কারণে নজরুলের সাম্যবাদী, অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী চিন্তা বর্তমান সময়েও প্রাসঙ্গিক।

কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম প্রয়াণ দিবসে তাঁর সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।

আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের শিল্পীরা নজরুলের কবিতা, গানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়