২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২২:০২, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাসভাড়া নিয়ে ৭ ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে ছাত্রদলের ‘বিরোধী অবস্থান’

বাসভাড়া নিয়ে ৭ ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে ছাত্রদলের ‘বিরোধী অবস্থান’

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকারী উৎসব ও বন্ধন পরিবহনের সাধারণ যাত্রী ও শিক্ষার্থীদের ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে ছাত্রদলের সঙ্গে ছাত্র ফেডারেশনসহ সাত ছাত্র সংগঠনের নেতাদের পাল্টাপাল্টি অবস্থান দেখা গিয়েছে। প্রশাসনিকভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত সাত সংগঠনের নেতারা যাত্রীভাড়া ৫৫ টাকা ও শিক্ষার্থীদের জন্য ৩৫ টাকা ভাড়া বহাল রাখার দাবি জানালেও ছাত্রদলের নেতারা বাস মালিকদের নির্ধারিত ৬০ টাকা ও ৩৫ টাকা ভাড়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

এ নিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে পৃথক বৈঠক ও তাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া চাঁদমারীতে উৎসব ও বন্ধন পরিবহনের কাউন্টারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তুলে কাউন্টার সাময়িকভাবে বন্ধও করে দেন ছাত্রদের একটি পক্ষ।

পরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্রশক্তি ও ইসলামী ছাত্র মজলিসের নেতারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান। সেখানে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম ফয়েজ উদ্দিনের সঙ্গে তারা বৈঠক করেন। একই সময়ে ছাত্রদলের একাংশের নেতারাও প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠকের আগে নারায়ণগঞ্জ কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি আলিমুল ইসলাম যাত্রীদের বলেন, ‘সারা বিশ্বে তেল সংকট। সারাদেশে সরকার তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। সেই ক্ষেত্রে বাস-মালিকেরা পূর্বের যে ভাড়া ৩৫ টাকা নিচ্ছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘কিছু ছাত্র নামে অছাত্র আছে, যারা এখানে এসে বিশৃঙ্খলা  তৈরি করার চেষ্টা করছে।’

জেলা ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৌরভ সেন বলেন, ‘বন্ধন-উৎসবের যে সিন্ডিকেট, সেই সিন্ডিকেট বন্ধ করতে চাই। এবং তাদেরকে হুঁশিয়ারি করতে চাই যে গত ১৭ বছর শেখ হাসিনার আমলে শামীম ওসমান, শাহ নিজাম এবং আজমীর ওসমানসহ যে ক্যাডার বাহিনী ছিল, তাদের চাঁদা দিয়ে তাদের ক্যাডার বাহিনী পালতে সহায়তা করেছেন। জনগণের পকেট কেটে কোনোভাবেই সন্ত্রাস-মাফিয়া পোষা যাবে না। কোনো সিন্ডিকেট পোষা যাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা এই বাস মালিকদের দালালি করছেন, এখনও সময় আছে আপনারা ঠিক হন। আর যদি না হন, তাহলে নারায়ণগঞ্জের ছাত্র-জনতা যেভাবে গণঅভ্যুত্থান সফল করেছে, ঠিক সেভাবেই আপনাদের প্রতিহত করবে এবং আপনাদেরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করবে।’

মহানগর ছাত্রশক্তির সদস্যসচিব মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘বাস মালিকেরা বুঝাতে যাচ্ছেন, তারা এক টাকাও কমাবে না। জনগণ এবং প্রশাসন তাদের কাছে জিম্মি। ছাত্রদলের একটি ইউনিটকে দেখলাম এসে বলছে, মালিক পক্ষ যে ৬০ টাকা এবং ৩৫ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করেছে, সেটি ন্যায্য। এবং আমাদেরকে সন্ত্রাসী আখ্যায়িত করে বিভিন্ন স্লোগান দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের বিপক্ষে গিয়ে যদি কোনো সিন্ডিকেট মাফিয়াদলের দালালি করে, সেই দালালদের কালো হাত নারায়ণগঞ্জের মাটিতে ছাত্র-জনতা আগে যেমন ভেঙেছে, আগামীতেও ভেঙে দেবে।’

ভাড়া নিয়ে প্রশাসনের অবস্থান সম্পর্কে সৌরভ সেন বলেন, ‘জেলা প্রশাসক আমাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। এবং আগের ভাড়া যেমন পুনর্বহাল রয়েছে, সেখানে ৬০ টাকা এবং ৩৫ টাকা করে টিকিট কাটা যায় না। সুতরাং আগের ভাড়ায় ৩৫ টাকা এবং ৫৫ টাকায় টিকিট কাটতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।’

আগামী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য ৩৫ টাকা এবং সাধারণ যাত্রীদের জন্য ৫৫ টাকায় টিকিট নেওয়ার আহ্বান জানান সৌরভ।

তবে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, ‘উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। আমরা গতকাল বৈঠকের মাধ্যমে একটি প্রস্তাবনা পেয়েছি যে শিক্ষার্থীদের জন্য ৩৪ এবং সাধারণ যাত্রীদের জন্য ৫৮ টাকা ভাড়া। তবে এখন পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’

এর আগে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাসভাড়া নির্ধারণ নিয়ে প্রশাসনের ডাকা চার ঘণ্টার বৈঠক কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়। বৈঠক শেষ হওয়ার পরদিনও যাত্রীদের কাছ থেকে ৬০ টাকা করে ভাড়া আদায় করতে দেখা যায়। আগেরদিনের বৈঠকেও সাধারণ যাত্রীর ভাড়া ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং শিক্ষার্থীদের ভাড়া নিয়ে মতপার্থক্য ছিল।

সোমবারের বৈঠকে প্রশাসনের উপস্থিতিতে ভাড়া নিয়ে আলোচনা চলাকালে দুই দফায় সভাকক্ষ ত্যাগ করেন বাস মালিকদের প্রতিনিধিরা। দ্বিতীয় দফায় বেরিয়ে যাওয়ার পর তাঁরা আর বৈঠকে ফেরেননি। ফলে প্রশাসন, ছাত্র প্রতিনিধি ও যাত্রী অধিকার সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে দীর্ঘ আলোচনা হলেও ভাড়া নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়