সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করতে ২ মিনিট লাগবে না: এমপি আল আমিন
ফতুল্লার বক্তাবলীর অবৈধ দখলদার ও সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন। তিনি বলেন, “এই ধরনের গুন্ডামি, এই ধরনের সন্ত্রাস নারায়ণগঞ্জে আর চলতে পারবে না। নারায়ণগঞ্জে মানুষ শান্তির জন্য ভোট দিয়েছে। নারায়ণগঞ্জের মানুষ একটি সুন্দর নারায়ণগঞ্জ করার জন্য ভোট দিয়েছে। তারপরও যদি এই ধরনের অবৈধ মাটি উত্তোলন, পুলিশের সাথে আঁতাত করে অন্যায় কর্মকাণ্ড এবং জনগণকে হয়রানির মতো ঘটনা ঘটে, এই বক্তাবলীবাসীদের সাথে নিয়ে দুই-চারজন সন্ত্রাসীকে প্রতিহত করতে আমাদের দুই মিনিটও সময় লাগবে না।”
বক্তাবলী এলাকায় এনসিপির উপর হামলার ঘটনায় মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল শেষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আল আমিন বলেন, “যারা গত ১৭ বছর বিভিন্ন নির্যাতনের শিকার হয়েছে তাদের প্রতি আমাদের সমবেদনা আছে। কিন্তু আপনারা নির্যাতনের শিকার হয়ে ক্ষমতাসীন দলে আসার পরে যদি আবার জনগণের উপর জুলুম করতে চান, জনগণ আপনাদের আবার ধান ক্ষেতে পাঠায় দিবে।”
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এমপি বলেন, “বক্তাবলীতে আমাদের জেলার সহসাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলামকে আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি এখনো খানপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। অবিলম্বে তার সুচিকিৎসা বাস্তবায়ন করতে হবে। ৪৮ ঘন্টার মধ্যে যারা অপরাধী, যারা এই ঘটনায় দোষী তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। প্রশাসন যদি সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতে অপারগ হয় তাহলে জনগণ প্রশাসনের কাছ থেকে জবাব নিবে। জনগণ জানে কীভাবে জবাবদিহিতা আদায় করতে হয়।”
তিনি আরও বলেন, “আগামী তিনদিনের ভিতরে আমরা অ্যাকশন দেখতে চাই। বক্তাবলীতে এই ন্যাক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। আপনারা যদি অপরাধীদের গ্রেপ্তার না করেন তাহলে বক্তাবলীর জনগণকে সাথে নিয়ে কি করতে হবে সেটা আমরা সিদ্ধান্ত নিবো। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থির কোন অবনতি ঘটলে এর দায় সরকারি দল এবং প্রশাসনকে নিতে হবে।”
তিনি বলেন, “আমরা আইনশৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা এত বড় একটা ঘটনা ঘটার পরেও কারো বাড়িতে একটা হামলা করি নাই। এত বড় একটা ঘটনা ঘটার পরেও কারো গায়ে আমরা একটা টাচ দেই নাই। আমরা থানায় গিয়েছি, মামলা করেছি। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবহেলার কারণে সন্ত্রাসীরা যদি বাইরে থাকে তাহলে তার দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে।”
“এই নারায়ণগঞ্জবাসী ওসমানদেরকেই বোরকা পড়িয়ে বিতারিত করেছে,” যোগ করেন তিনি।
এমপি বলেন, “নারায়ণগঞ্জে এবং বক্তাবলীতে আমরা আর চাদাবাজ সন্ত্রাসীদের কালো হাত দেখতে চাই না। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই- কেউ যদি মনে করে আগের যুগ আছে, কেউ যদি মনে করে গায়ের জোর, পেশি শক্তি দিয়ে রাজনীতি করবে, ওই কালো হাত কীভাবে ভেঙ্গে দিতে হয় তা বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা ভালো করেই জানে।”
অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে নৌ পুলিশের পদক্ষেপ নেবার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এখানে নৌ-পুলিশের কর্মকর্তা উপস্থিত আছেন, তাদেরকে বলতে চাই- বক্তাবলী নৌ পুলিশের ব্যাপারে স্পষ্ট অভিযোগ আছে। তারা এই অবৈধ মাটি কাটার কমিশন খায়। এই ধরনের অবৈধ মাটি কাটার কমিশন খাইয়া যদি কোন ধরনের অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযোগ না করেন তাহলে জনগণ আপনাদেরকে প্রতিহত করবে।”
“এই ধরনের অন্যায়কারী জুলুমবাজ এবং মাটি কাটা থেকে চান্দা খাবেন এই জন্য জনগণের ট্যাক্সের টাকায় আপনাদের বেতন দেওয়া হয় না। এরপর থেকে বক্তাবলীতে যে কোন অন্যায়, নির্যাতন, অপকর্মের বিরুদ্ধে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা মুভ করবো।”
বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির জেলা কমিটির আহ্বায়ক যুবাইর সরদার, সদস্য সচিব তামজিদ আহমেদ জোবায়ের, সাংগঠনিক সম্পাদক নিরব রায়হান, মহানগর কমিটির আহ্বায়ক শওকত আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক জাবেদ আলম, জাতীয় ছাত্রশক্তির জেলার আহ্বায়ক মাহফুজ খান, মহানগর শাখার আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।





































