পিস্তল-শটগান ফেরত পেয়ে এমপি দিপু ভূঁইয়া ও ডিসি-এসপিকে সোহাগের ধন্যবাদ
নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী নেতা মোহাম্মদ সোহাগের নামে থাকা দুটি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে ফতুল্লা মডেল থানায় জমা থাকা তাঁর একটি পিস্তল ও একটি শটগান ফেরত দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আগ্নেয়াস্ত্র শাখা থেকে জারি করা এক আদেশে এ অনুমতি দেওয়া হয়। সহকারী কমিশনার সুহা তাবিল স্বাক্ষরিত আদেশটি পুলিশ সুপার, জেলা বিশেষ শাখা, নারায়ণগঞ্জ বরাবর পাঠানো হয়।
বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ফেরত পাওয়ার পর সরকার, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মোহাম্মদ সোহাগ।
প্রতিক্রিয়ায় সোহাগ বলেন, ‘বর্তমান সময়ে আমি আমার বৈধ অস্ত্র ফিরে পেয়েছি। এজন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারকে ধন্যবাদ জানাই। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূঁইয়া এমপিকেও ধন্যবাদ জানাই। তাঁদের প্রচেষ্টায় আমি আমার বৈধ অস্ত্র ফিরে পেয়েছি।’
জেলা প্রশাসনের আদেশে বলা হয়েছে, পুলিশ সুপার, জেলা বিশেষ শাখা ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হলফনামা গ্রহণের পর মোহাম্মদ সোহাগের জমা রাখা আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ফতুল্লা থানায় জমা থাকা অস্ত্র দুটি তাঁকে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।
মোহাম্মদ সোহাগ ফতুল্লার মাসদাইর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর নামে পিস্তল এবং শটগান লাইসেন্স রয়েছে। সরকারি নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট অস্ত্র দুটি ও সংশ্লিষ্ট গুলি ফতুল্লা মডেল থানায় জমা দিয়েছিলেন তিনি।
সোহাগ নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ও মীম শরৎ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, নারায়ণগঞ্জ আটা-ময়দা মিল মালিক সমিতির সভাপতি এবং বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
এর আগে ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে অস্ত্র দুটি ফেরত চেয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করেন সোহাগ। আবেদনে তিনি জানান, ২০২৫ সালের ১ জুন রাতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে বাসায় ফেরার পথে সরকারি তোলারাম কলেজের সামনে থেকে তিনি অপহৃত হন। পরদিন পটুয়াখালীর পায়রাকুঞ্জ ফেরিঘাট এলাকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়।
ওই ঘটনায় তাঁর স্ত্রী তানিয়া আহম্মেদ বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় অপহরণ মামলা করেন। তদন্ত শেষে সাতজনের বিরুদ্ধে পুলিশ অভিযোগপত্র দেয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা আমলি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ওই অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।
সোহাগ আবেদনে দাবি করেছিলেন, মামলায় অভিযোগপত্র দাখিলের পর থেকে তিনি নানাভাবে হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন। ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে তাঁর বৈধ লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি ফেরত দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।





































