জিয়া হলকে সমৃদ্ধ সংস্কৃতি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরামর্শ রফিউর রাব্বির
নারায়ণগঞ্জের শহীদ জিয়া হলকে আধুনিক ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি। নতুন জিয়া হলে নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরতে জাদুঘরের আদলে একটি বিশেষ স্থান রাখারও প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) নগর ভবনের অডিটোরিয়ামে ‘শহীদ জিয়া হলের’ স্থাপত্য নকশা উপস্থাপনবিষয়ক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রফিউর রাব্বি বলেন, ‘বলা হচ্ছে, জিয়া হল একটি সংস্কৃতির কেন্দ্র বা কালচারাল হাব হবে। তাই এর ডিজাইন কীভাবে হবে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে কী কী রাখা যায় বা রাখা প্রয়োজন, তার একটি তালিকা থাকা উচিত। সমস্ত কিছু একটার ভেতরে ঢুকিয়ে এটাকে হযবরল করার কিছু নেই।’
জিয়া হলে নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘জিয়া হলে একটি মিউজিয়াম বা জাদুঘরের আদলে কিছু থাকা উচিত বলে আমি মনে করি। যেখানে আমাদের নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নিদর্শন থাকবে। বাইরে থেকে যারা আসবেন, তারা এখানে এলে যেন নারায়ণগঞ্জ সম্পর্কে একটি ধারণা পেতে পারেন।’
নারায়ণগঞ্জে মানসম্মত মিলনায়তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন রফিউর রাব্বি। তিনি বলেন, ‘আমাদের নারায়ণগঞ্জে সেই অর্থে কোনো মিলনায়তন নেই। দীর্ঘদিন আমাদের এখানে ছিল না। জিয়া হল হওয়ার পর সাময়িক একটা সময় এটি ব্যবহার করা গেছে। কিন্তু পরবর্তীতে এটি অকেজো হয়ে পড়ে।’
নাগরিকদের মতামত নতুন জিয়া হলের নকশায় গুরুত্ব পাওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি। তবে অতীত অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে রফিউর রাব্বি বলেন, ‘আমাদের পরামর্শগুলো কতটা সংযোজিত হবে বা বাস্তবায়িত হবে, এতে আমার যথেষ্ট সংশয় আছে। আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা ভালো নয়।’
আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘চুনকা পাঠাগার করার সময় আমাদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। আমরা মতামত দিয়েছি, কিন্তু কোনো একটি মতামত গ্রহণ করা হয়নি। যার ফলে এটি একটি তৃতীয় শ্রেণির মিলনায়তন হয়েছে এবং এটি কোনো পাঠাগার নয়।’
নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন নাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নূর কুতুবুল আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আজগর হোসেন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য মাইনুদ্দিন আহমাদ, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম, নাসিকের নগর পরিকল্পনাবিদ মঈনুল ইসলাম, খেলাঘর আসরের সভাপতি জহিরুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়কারী তারিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ফারহানা মানিক মুনা, সদর থানা বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা, এবং সাবেক নারী কাউন্সিলর দিলারা মাসুদ ময়না প্রমুখ।





































