১৬ কোটি টাকার লিংক রোডের সড়কবাতি চুরি, অন্ধকারে ঝুঁকিপূর্ণ রাতের চলাচল
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক (লিংক রোড) রাতের চলাচল নিরাপদ করতে প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা হয়েছিল সড়কবাতি। তবে সময়ের সঙ্গে এসব বাতির তার ও বাতি চুরি হয়ে যাওয়ায় সড়কের বড় একটি অংশ এখন অন্ধকারে থাকছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের সামনেও সড়কবাতি অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে।
সম্প্রতি লিংক রোডের সাইনবোর্ড থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু সড়কবাতি চুরি হয়েছে। অধিকাংশ ল্যাম্পপোস্টে এখন বাতি নেই। বিষয়টি নিয়ে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন পন্টি একটি ভিডিওতেও বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এর আগেও লিংক রোডের সড়কবাতির তার চুরি হয়েছিল। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগও করা হয়। এরপরও সড়কবাতির তার ও বাতি চুরি বন্ধ হয়নি।
সড়কবাতি নষ্ট ও চুরি হয়ে যাওয়ায় রাতে লিংক রোডের বিভিন্ন অংশ অন্ধকারে থাকে। এতে নিয়মিত চলাচলকারী পথচারী ও যানবাহনের চালকেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান স্থানীয়রা।
তাদের অভিযোগ, অন্ধকারের সুযোগে সড়কে ছিনতাই ও চুরির ঘটনা ঘটছে। একই সঙ্গে সড়কবাতি না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
গত ১৫ আগস্ট রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন ফ্লাইওভারের দক্ষিণ পাশের মাথায় চাষাঢ়া থেকে সাইনবোর্ডগামী সড়কের মূল লেনে দুর্ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি (৫৫) নিহত হন।
এ ছাড়া গত ২৫ জুলাই বিকেলে ফতুল্লার রিয়া গোপ স্টেডিয়ামসংলগ্ন এলাকায় সড়ক পারাপারের সময় ট্রাকের চাপায় আবুল হোসেন (৫৫) নামের এক পথচারী নিহত হন।
গত ৩০ জুন কড়ইতলা লিংক রোডে শাহ জামাল খান নামের এক ব্যবসায়ীর ওপর হামলা চালিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন ছিনতাইকারীরা। এ সময় তাঁর কাছ থেকে টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান তারা।
এর আগে গত ৮ মার্চ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে ছিনতাইয়ের চেষ্টার সময় গণপিটুনিতে অজ্ঞাতপরিচয় এক তরুণ (২৬) নিহত হন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা দুই সহযোগী পালিয়ে যান। পরে জনতা ছিনতাইকারীদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়।
বিপুল অর্থ ব্যয়ে স্থাপন করা সড়কবাতির তার ও বাতি চুরি হয়ে যাওয়ার পর সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, চুরি হওয়া তার ও বাতি দ্রুত প্রতিস্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং সড়কবাতিগুলো নিয়মিত তদারকের ব্যবস্থা করতে হবে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, ‘কিছুদিন আগে সড়কবাতির তার চুরি করে নিয়ে গেছে। এখন আবার সড়কের বাতিও চুরি হচ্ছে। প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়ক পুরোপুরি সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা কঠিন। এ জন্য আমাদের পর্যাপ্ত বাজেটও নেই। তবে চুরিপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে আমাদের কার্যক্রম চলছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই সমস্যাটির সমাধান করা সম্ভব হবে।’
প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত সড়কবাতির বড় অংশ চুরি বা অকেজো হয়ে পড়ার পর এখন প্রশ্ন উঠেছে রাতের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে এসব বাতি কবে পুনঃস্থাপন হবে এবং ভবিষ্যতে চুরি ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





































