১০ অক্টোবর ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৬:২৪, ১০ অক্টোবর ২০২৬

সোনারগাঁয়ের ঐতিহ্য ও প্রত্নস্থল সংরক্ষণে দিনব্যাপী রোড-শো

সোনারগাঁয়ের ঐতিহ্য ও প্রত্নস্থল সংরক্ষণে দিনব্যাপী রোড-শো

সোনারগাঁয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে দিনব্যাপী রোড-শো করেছেন ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটির সদস্যরা। কর্মসূচিতে ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রত্নস্থল পরিদর্শন, লিফলেট বিতরণ এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে পানাম নগরী থেকে ‘সোনারগাঁয়ের ঐতিহ্য রক্ষা করি, প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণে ঐক্য গড়ি’ স্লোগানে রোড-শো শুরু হয়। এর উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক, লেখক ও গবেষক ড. আকমল হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী পারভীন সুলতানা।

কমিটির আহ্বায়ক কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েস, যুগ্ম আহ্বায়ক কবি ও সংগঠক রহমান মুজিব, লেখক ও সাংবাদিক মিজানুর রহমান এবং সদস্যসচিব লেখক ও সাংবাদিক রবিউল হুসাইনের নেতৃত্বে সদস্যরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।

এ ছাড়া অংশ নেন ব্যাংকার ও সংগঠক মতিউর রহমান, লেখক ও সাংবাদিক ফজলে রাব্বী সোহেল, সাংবাদিক ও নাট্যাভিনেতা মোকাররম মামুন, সাংবাদিক ও সংগঠক গাজী মোবারক, লেখক ও শিক্ষক আসমা আখতারী, লেখক ও সাংবাদিক রোকেয়া আক্তার, লেখক ও সংগঠক শংকর প্রকাশ, লেখক মোফাখখার সাগর, লেখক সেলিম আহমেদ প্রধান, লেখক শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী, সাংবাদিক মো. বিল্লাল প্রধান ও বিরত আলীসহ কমিটির অন্য সদস্যরা।

রোড-শোতে ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড ধরে সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থান ও প্রত্নস্থল পরিদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ছিল মহজমপুর শাহী জামে মসজিদ, লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রম, জ্যোতিবসুর স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি, কোম্পানি-কা ব্রিজ, প্রাচীন ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় ও হাদিস চর্চাকেন্দ্র, শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামা ও ইব্রাহিম দানিশমান্দের সমাধি এবং সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সমাধি।

এ ছাড়া ইউসুফগঞ্জ মসজিদ, ফতেহ শাহ মসজিদ, গোয়ালদি শাহী মসজিদ, শাহ আবদুল হামিদ মসজিদ, পানাম সেতু, নীলকুঠি, ক্রোড়ি বাড়ি, পোদ্দারবাড়ি, বড় সরদারবাড়ি, ছোট সরদারবাড়ি ও পানাম নগরী পরিদর্শন করেন অংশগ্রহণকারীরা। দিনব্যাপী পরিদর্শন শেষে পানাম নগরীতে কর্মসূচি শেষ হয়।

কর্মসূচি চলাকালে প্রত্নসম্পদের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে লিফলেট বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে প্রত্নস্থল রক্ষায় নাগরিকদের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আয়োজকেরা জানান, সোনারগাঁয়ের প্রত্ননিদর্শনের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের পরিচিতি বাড়ানো এবং সংরক্ষণ কার্যক্রমে তাঁদের সম্পৃক্ত করাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। গণমাধ্যমে লেখালেখির মাধ্যমে এসব পুরাকীর্তির ইতিহাস, বর্তমান অবস্থা ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে চান তারা। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পুরাকীর্তি সংস্কার ও সংরক্ষণে সরকার, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কার্যকর উদ্যোগ নিশ্চিত করতে জনমত গড়ে তোলারও লক্ষ্য রয়েছে তাদের।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়