আওয়ামী লীগের ‘সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য’ প্রতিহতের ঘোষণা বিএনপির
আওয়ামী লীগের ‘সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের’ প্রতিবাদে ফতুল্লা ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের ফতুল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মামুন মাহমুদ বলেন, ‘সাত মাস হলো জনরায়ের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। ৩০ হাজার নেতাকর্মীর জীবনের বিনিময়ে এই গণতন্ত্র ফিরে এসেছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ বোমাবাজি ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এসব কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে থাকবে বলেও জানান তিনি।
আত্মগোপনে থাকা ব্যক্তিদের উদ্দেশে মামুন মাহমুদ বলেন, ‘ঢাকায় বসে গুপ্তভাবে লোক দিয়ে উসকানি দেবেন না। সাহস থাকলে প্রকাশ্যে ফতুল্লায় আসুন। শান্ত পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা করবেন না, নইলে কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।’
ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হলেও দেশে থাকা একটি চক্র দেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে থেকেই সেই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেবে।’
সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের সঙ্গে জড়িতদের সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘আপনারা সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য পরিহার করুন। তা না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।’
ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বারী ভূঁইয়া বলেন, ‘এক শ্রেণির লোক দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তাদের “বুবু” ভারতে বসে বলছেন, তিনি নাকি ফিরে আসবেন। কিন্তু ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, পালিয়ে যাওয়া কোনো স্বৈরাচার কখনো ফিরে আসেনি।’
নির্বাচনের আগে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত চার নেতার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা ফেসবুকে লেখান যে দলের জন্য আপনাদের প্রয়োজন, যা একেবারেই সত্য নয়। আপনারা আর কখনোই দলে ফিরতে পারবেন না, কারণ আপনারা দলের চেয়ে নিজেদের স্বার্থকে বড় করে দেখেছেন।’
ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু বলেন, ‘আপনারা দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াই-সংগ্রাম করেছেন। আগামীতেও ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করবে।’
এনসিপি নেতা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তাকে রিমান্ডে নিলেই ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।’
ফতুল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাসান মাহমুদ পলাশের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনের সঞ্চালনায় সমাবেশে ফতুল্লা থানা ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল ও কৃষক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।





































