১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৫:৪৩, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৫:৪৭, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আ.লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে মার্কেট কমিটির সভাপতিকে মারধর টিপুর

আ.লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে মার্কেট কমিটির সভাপতিকে মারধর টিপুর

নারায়ণগঞ্জ শহরে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দোকান মালিক সমিতির সভাপতিকে তার দোকানে ঢুকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর বিরুদ্ধে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত দশটার দিকে চাষাঢ়ায় সায়াম প্লাজার নিচতলায় 'হাইমুন কসমেটিকস' নামে একটি প্রসাধনী পণ্য বিক্রির দোকানে এ ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিকার ৭০ বছর বয়সী হাসান ইমাম শহরের চাষাঢ়ার বাসিন্দা। তিনি জেলা দোকান মালিক সমিতির সহসভাপতি এবং সায়াম প্লাজা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি।

মারধরের ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে। সেখানে দেখা যায়, মহানগর বিএনপির নেতা আবু আল ইউসুফ খান টিপুর নেতৃত্বে একদল যুবক দোকানটিতে ঢোকেন। তারা হাসান ইমামকে চর-থাপ্পর মারছেন বলেও ভিডিওতে দেখা যায়।

ঘটনার সময় দোকানেই ছিলেন হাসান ইমামের ছোটভাই মো. জুয়েল। তিনি বলেন, টিপুর নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক বিএনপির নেতা-কর্মী দোকানটিতে আসেন। পরে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে দোকানের ভেতরেই হাসানকে মারধর করেন টিপু ও তার সঙ্গে থাকা নেতা-কর্মীরা।

“আমার বড়ভাই দোকান মালিক সমিতির সভাপতি। উনি সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী কিংবা নেতা নন। তাকে মিথ্যা অভিযোগ তুলে মারধর করা হয়েছে,” অভিযোগ করেন জুয়েল।

এদিকে, মারধরের ঘটনার পর হাসান ইমাম রাতে আরো অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানান তার ছেলে হাইমুন হাসান। তিনি বলেন, “আমার বয়স্ক বাবাকে অনেকগুলো চর-থাপ্পর ও ঘুষি মেরেছেন। রাত তিনটার দিকে তিনি হঠাৎ অনেক বমি করতে থাকেন।”

অসুস্থ অবস্থায় রাতেই তাকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থা কিছুটা সুস্থ হলে সকালে তাকে আবার বাড়িতে আনা হয়েছে বলে জানান ছেলে হাইমুন।

এ ঘটনায় তারা আইনগত পদক্ষেপ নেবার কথাও ভাবছেন বলে জানান।

এদিকে, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু দাবি করেন, হাসান ইমাম আওয়ামী লীগের সরাসরি কোনো কমিটিতে না থাকলেও সে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনটির একজন অর্থ যোগানদাতা। সাম্প্রতিক সংগঠনটির ব্যানারে মিছিলগুলোতে অর্থায়ন করেছেন বলেও অভিযোগ করেন টিপু।

যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসান ইমামের পরিবারের সদস্যরা।

মারধরের বিষয়ে টিপু বলেন, “সে হলো আজমেরী ওসমান ও শাহ নিজাম এর লোক। বিগত দিনে সে অনেক অপকর্ম করেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের দিনেও ওসমান পরিবারের সঙ্গে থেকে আন্দোলনকারীদের উপর হামলা চালিয়েছে। সে গুলশানের মতো আরেকটা মিছিল নারায়ণগঞ্জে করার জন্যও ফান্ডিং করেছে। এমন খবর পেয়ে আমি ও সাথে কয়েকজন লোক দোকানে গিয়েছিল। সেখানে উত্তেজনাবশত কয়েকজন তাকে চর-থাপ্পর দিয়েছে সত্য। কিন্তু আমিই তাদের আবার থামিয়েছি।”

মারধরের ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছেন বলে জানান সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান। তবে, এ ঘটনায় কেউ থানায় মৌখিক বা লিখিত অভিযোগ করেননি বলে জানান তিনি।

“আমরা ভিডিওটি ফেসবুকে দেখেছি। এ ব্যাপারে কেউ লিখিত অভিযোগ করলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সর্বশেষ

জনপ্রিয়