ফতুল্লায় মাদ্রাসার ছাদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ ৫ ছাত্রী, চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি মহিলা মাদ্রাসার ছাদে খেলতে গিয়ে বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে দগ্ধ হয়েছে পাঁচ ছাত্রী। তাদের মধ্যে চারজনের শরীরের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কাশীপুর হাজীপাড়া মাহেলা খাতুন মহিলা মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।
দগ্ধ ছাত্রীরা হলো—লামিয়া (১২), আসিয়া (৮), সুমাইয়া (১৩), জিকরি (১২) ও আতিয়া (১২)। তাদের নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুব আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় কয়েকজন শিক্ষার্থী মাদ্রাসার চারতলা ভবনের ছাদে খেলতে যায়। তাদের সঙ্গে খাওয়ার জন্য আখ ছিল। ছাদের ওপর দিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের তার গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, অসাবধানতাবশত একটি আখ বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এলে বিকট শব্দে স্পার্ক ও আগুনের সৃষ্টি হয়। এতে পাঁচ ছাত্রী দগ্ধ হয়।
পরে মাদ্রাসার শিক্ষক ও স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. মোরশেদ উল আলম খান বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পাঁচজন দগ্ধ রোগীকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের ব্যথানাশক ইনজেকশন, স্যালাইন ও অক্সিজেন দেওয়ার পর ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, পাঁচজনের মধ্যে চারজনের শরীরের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে। অপর একজন তুলনামূলক কম দগ্ধ হয়েছে। চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী ফতুল্লা বিসিক ফায়ার অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আব্দুল হালিম বলেন, ছাদে কাঁচপাতাযুক্ত আখ পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আখটি ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এলে স্পার্ক থেকে আগুনের সৃষ্টি হয়।
তিনি আরও জানান, ভবনের নিচতলায় থাকা গ্যাসের রাইজারেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুতের স্পার্কের সময় গ্যাস লিকেজ থেকে সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। তবে নিচতলায় তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।





































