সাত বছরে সিনেস্কোপ, কেক কাটা-আড্ডায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
সিনেমাপ্রেমীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি, কেক কাটা, আড্ডা ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জের প্রথম মিনিপ্লেক্স ‘সিনেস্কোপ’-এর সপ্তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শহরের আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তন ভবনে অবস্থিত সিনেস্কোপে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর নির্মাতা নূরুজ্জামান ঢালিমের উদ্যোগে মাত্র ৩৫ আসন নিয়ে যাত্রা শুরু করে সিনেস্কোপ। এতে ফোর-কে সিলভার স্ক্রিন, ৭.১ ডলবি ডিজিটাল অডিও সিস্টেম এবং থ্রি-ডি সিনেমা প্রদর্শনের ব্যবস্থা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা জানিয়ে কবি আহমেদ বাবলু বলেন, ‘আমরা যারা ভালো সিনেমা দেখতে চাই, তাদের জন্য সিনেস্কোপ একটি পরম পাওয়া। বড় পর্দায় ভালো মানের সিনেমা হাতের কাছেই দেখতে পারছি। নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক যাত্রায় সিনেস্কোপের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।’
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ধীমান সাহা জুয়েল বলেন, ‘ইট-পাথরের এই শহরে ছোট্ট একটি হল সিনেস্কোপ। শুধু সিনেমা হল বললে ভুল হবে, এটি আমাদের বিনোদন ও শিক্ষার একটি জায়গা। শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণির দর্শকের কথা চিন্তা করে এখানে সিনেমায় বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করা হয়।’
সিনেস্কোপকে শহরের সংস্কৃতিকর্মীদের আড্ডা ও সিনেমা দেখার একটি জায়গা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিশু ও শিক্ষার্থীদেরও সিনেমা দেখার চর্চার সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন। এতে তারা মোবাইল আসক্তি থেকে বেরিয়ে সুস্থ বিনোদনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে।
সাংস্কৃতিক সংগঠন সমগীতের সদস্য হুমায়রা মুর্ছনা বলেন, ‘সিনেস্কোপ এমন একটি জায়গা, যেখানে নারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে একা সিনেমা দেখতে পারেন এবং সিনেমাপ্রেমীদের সঙ্গে সিনেমা নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। নারায়ণগঞ্জে এমন একটি জায়গার প্রয়োজন ছিল, যা সিনেস্কোপ তৈরি করেছে।’
সিনেস্কোপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রবি বলেন, ‘২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সিনেস্কোপের যাত্রা শুরু হয়। তখন আমাদের লক্ষ্য ছিল একটি পরিবার ও নারীবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা, যাতে নারী দর্শকরাও স্বাচ্ছন্দ্যে সিনেমা দেখতে পারেন। সাত বছরের পথচলা সহজ ছিল না। তারপরও আমরা প্রতিষ্ঠানটিকে ধরে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।’
তিনি জানান, সিনেস্কোপের সদস্যভিত্তিক একটি ক্লাব রয়েছে, যার সদস্যসংখ্যা বর্তমানে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি। সদস্যদের জন্য প্রতি সপ্তাহে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। বছরে প্রায় ৫০টি দেশি-বিদেশি, বিভিন্ন ভাষার পুরোনো ও ধ্রুপদি সিনেমা প্রদর্শন করা হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে সিনেস্কোপের সদস্য, চলচ্চিত্রপ্রেমী ও সংস্কৃতিকর্মীরা অংশ নেন। কেক কাটার পাশাপাশি সিনেমা, সংস্কৃতি এবং নারায়ণগঞ্জে চলচ্চিত্রচর্চার বিভিন্ন দিক নিয়ে চলে আড্ডা ও শুভেচ্ছা বিনিময়।





































