০৯ আগস্ট ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২১:০৯, ৮ আগস্ট ২০২৬

ত্বকী হত্যার বিচার দাবিতে আলোকপ্রজ্বালন, ওসমানদের গ্রেপ্তার দাবি

ত্বকী হত্যার বিচার দাবিতে আলোকপ্রজ্বালন, ওসমানদের গ্রেপ্তার দাবি

নারায়ণগঞ্জে নিহত তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর হত্যায় অভিযুক্ত ওসমান পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার ও এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত করার দাবিতে আলোকপ্রজ্বালন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কর্মসূচি থেকে দীর্ঘদিন ধরে বিচার ঝুলে থাকার সমালোচনা করে অবিলম্বে দৃশ্যমান বিচার প্রক্রিয়া শুরুর দাবি জানান বক্তারা।

শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় নগরীর চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

কর্মসূচিতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ত্বকীর পিতা, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি। তিনি বলেন, “ত্বকী হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযুক্ত শামীম ওসমান এবং চিহ্নিত ঘাতক আজমেরী ওসমান ও অয়ন ওসমানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘ সাড়ে ১৩ বছর ধরে আমরা ত্বকী হত্যার বিচার দাবি করে আসছি। শুধু ত্বকী নয়, নারায়ণগঞ্জে ওসমান পরিবারের হাতে নিহত অন্তত ২০ জন এবং দেশজুড়ে সাগর-রুনি ও তনু হত্যার বিচার নিয়েও আমরা সোচ্চার। কিন্তু এখনো কোনো দৃশ্যমান বিচার হয়নি।”

রফিউর রাব্বি অভিযোগ করেন, ২০১৪ সালেই র‍্যাব তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিলের কথা জানিয়েছিল, কিন্তু তা আলোর মুখ দেখেনি। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক কারণে সেই অভিযোগপত্র আটকে রাখা হয়েছিল। অত্যন্ত দুঃখজনক যে, পরবর্তী সময়ে ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও বিচার ব্যবস্থার জনবিরোধী ও বৈষম্যমূলক অবস্থার তেমন পরিবর্তন হয়নি।”

তিনি বক্তব্যে বিভিন্ন সময়ের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “২০১৩ সালের ১ মে কাঁচপুরে মে দিবসের সমাবেশে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া প্রশ্ন তুলেছিলেন- ত্বকীর হত্যাকারীরা কেন গ্রেপ্তার হচ্ছে না। একইভাবে নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও ত্বকী হত্যার বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।”

তিনি আরও বলেন, “চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান নিয়ে রাজপথে নেমেছিল। কিন্তু এত সময় পেরিয়ে গেলেও সেই প্রত্যাশিত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়নি।”

প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করে রফিউর রাব্বি বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ওসমান পরিবার ও ত্বকীর ঘাতকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে উল্টো নিরাপত্তা দিয়েছে বলে মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে। এতে করে নারায়ণগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতেও যদি প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে তা অপরাধীদের জন্য পরোক্ষ উৎসাহ হিসেবে কাজ করবে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়- জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তির কাছে কোনো অপশক্তি টিকতে পারে না।”

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষার জন্য ত্বকীসহ সব হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”

কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে অন্যান্য বক্তারাও একই দাবি জানান এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে রাষ্ট্রের কার্যকর উদ্যোগের ওপর জোর দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিশু সংগঠক রথীন চক্রবর্তী, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাসুম, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি ভবানী শংকর রায়, ন্যাপ জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়