০৯ আগস্ট ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২০:১৭, ৮ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ২১:২৪, ৮ আগস্ট ২০২৬

বিএনপিতে ‘দোসর’ বিতর্ক, মুখোমুখি নেতাকর্মীরা

বিএনপিতে ‘দোসর’ বিতর্ক, মুখোমুখি নেতাকর্মীরা

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৬, ১৭ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ও সাবেক প্যানেল মেয়র আফসানা আফরোজ বিভাকে ঘিরে মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা ও সমালোচনা। 

দলের একাংশের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বিভার, তবে ক্ষমতার পালাবদলের পর তিনি হঠাৎ বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।

গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিএনপির এক সভায় এই প্রসঙ্গে বিভার সঙ্গে মহিলা দলের সাবেক সভানেত্রী রাশেদা জামালের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। ওই সময় মহানগর মহিলা দলের বর্তমান সভাপতি দিলারা মাসুদ ময়নাও বিভার সঙ্গে বিরোধে জড়ান। পরে রাশেদা জামালের ছেলে ও মহানগর যুবদলের সদস্য রাফি-উদ্দিন রিয়াদ নিজের ফেসবুকে বিভার সঙ্গে সাবেক মেয়র আইভীর পুরোনো একটি ছবি পোস্ট করে অভিযোগ করেন, বিভা হাসান নিজেই আওয়ামী লীগের দোসর হয়ে তাঁর মা, মহানগর মহিলা দলের সাবেক সভাপতিকে আওয়ামী লীগের দোসর বলে কটূক্তি করেছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন ও সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর সহযোগিতায় বিভা নতুন করে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন। মহিলা দলের সভাপতি দিলারা মাসুদ ময়নাকেও বিভার পুরোনো প্রসঙ্গ টেনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মন্তব্য করতে দেখা গেছে।

এসব অভিযোগের জবাবে আফসানা আফরোজ বিভা উল্টো দিলারা মাসুদ ময়না ও রাশেদা জামালের বিরুদ্ধেই আইভীর সঙ্গে সখ্যতার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি পাল্টা অভিযোগ করে জানান, তাঁরা দুজনেই আইভীর কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা নিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আওয়ামী লীগ আমলে সিটি করপোরেশনের ৩৬ জন কাউন্সিলর আইভী আপার সাথে কাজ করেছেন এবং আমিও করেছি। আমি কোনো দোসর না। বরং বিএনপিকে মনেপ্রাণে ধারণ করি।" নিজ দলের নেতাকর্মীদের দ্বারা প্রতিহিংসার রাজনীতির শিকার হচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, বিভার পরিবারের বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং দলে তাঁর সক্রিয় হওয়াকে স্বাভাবিকভাবেই দেখা উচিত। তিনি বলেন, "বিভার পরিবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাঁর স্বামী হাসান বিএনপি করে অনেক মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। তাঁর বড় ভাই মজিদ সাহেব মহানগর বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য। এখন বিভা যদি বিএনপি করতে চান, সেটা তো দোষের কিছু না। খালি কি আমরাই বিএনপি করব? দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে হলে সবাইকে সুযোগ দিতে হবে। কে বিএনপি আর কে দোসর, তা আমাদের চেয়ে বেশি কেউ জানে না। যাঁরা দোসর বলছেন, তাঁরা নিজেরাই তো আশপাশে আওয়ামী লীগ নিয়ে চলাফেরা করেন। তাই বিভার বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়াটা আমি খারাপ চোখে দেখছি না।"

একই প্রসঙ্গে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, বিভার সরকারি দায়িত্ব পালনকে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই এবং তাঁকে নিয়ে দলের ভেতরে কোনো অভিযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, "আফসানা আফরোজ বিভা বিএনপি পরিবারের মানুষ। তাঁর নামে আওয়ামী লীগ আমলে মিথ্যা মামলাও হয়েছে। একটা বিষয় হলো, তিনি যেহেতু আওয়ামী লীগ আমলে সিটি করপোরেশনের জনপ্রতিনিধি ছিলেন, তাই তাঁকে অনেক সরকারি কার্যক্রমে অংশ নিতে হয়েছে। এটাকে ভিন্নভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। যারা তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করছে, তারা হয়তো ব্যক্তিগত আক্রোশের জায়গা থেকে বলছে অথবা তাদের বোঝার কোনো ভুল রয়েছে। তবে আমরা যারা মহানগর বিএনপির দায়িত্বে আছি, তাদের কারো বিভাকে নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই।"

দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন,  পাল্টাপাল্টি এই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে মহানগর বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল বাড়াবে।  পাশাপাশি দলের ঐক্য ও সাংগঠনিক ভিত্তিও দুর্বল হয়ে পড়বে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়