স্কুলছাত্রীকে লাথি: অভিযুক্ত শিশুকে আটকের পর ‘প্রবেশনে পরিবারের জিম্মায়’
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও লাথি মারার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্ত ১১ বছর বয়সী শিশুকে আটকের পর প্রবেশনে পরিবারের জিম্মায় দিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে তাকে আটক করার পর শিশু আইন অনুযায়ী সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন কর্মকর্তার পর্যবেক্ষণে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয় বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী।
তিনি বলেন, ওই শিশুকে ছয় মাসের জন্য প্রবেশনে পরিবারের কাছে দেওয়া হয়েছে। প্রতিমাসে শিশুটির বিষয়ে পুলিশের নিবে পুলিশ।
অভিযুক্ত শিশুটি সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর ইউনিয়নের একটি ভাড়াবাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকেন। তার বাবা পেশায় রিকশাচালক এবং মা পোশাক কারখানায় চাকরি করেন।
সম্প্রতি কাঁচপুর সেতুর নিচে শীতলক্ষ্যা নদীর ওয়াকওয়ে দুই স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও লাথি মারার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যদিও ঘটনাটি মাসখানেক আগে ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে, সম্প্রতি ভিডিও ভাইরাল হলে এই ঘটনায় একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে শিশুটি তার গ্রামের বাড়ি রংপুরে চলে যায়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, শনিবার শিশুটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে নিয়ে থানায় হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে তারা থানায় এলে শিশুটির বয়স বিবেচনায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন কর্মকর্তা নূর ফারজানার সহযোগিতা নেয় পুলিশ। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রবেশন কর্মকর্তা ও অভিযুক্তের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে প্রবেশনে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
“২০১৩ সালের শিশু আইন অনুযায়ী বিকল্প ব্যবস্থা বা ডাইভারশনের মাধ্যমে ওই শিশুকে ছয় মাসের জন্য অভিভাবকের কাছে পাঠানো হয়েছে। এই ছয় মাসে ওই শিশুকে কাউন্সেলিং করা হবে। প্রতি মাসে তার বিষয়ে পুলিশকে প্রতিবেদন দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে সে এ ধরনের কাজে জড়াবে না এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে।”
পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও জানান, অভিযুক্ত শিশুটি চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিল।
অন্যদিকে, ভুক্তভোগী দুই স্কুলছাত্রী কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তাদের দু’জনকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করার অভিযোগ করেন তার পরিবারের সদস্যরা।
ভুক্তভোগীর এক ছাত্রীর বাবা বলেন, “ওই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর আমার মেয়েকে স্কুল থেকে টিসি (ট্রান্সফার সার্টিফিকেট) দিয়েছে। আমি গরীব মানুষ। এখন আরেক স্কুলে কেমনে ভর্তি করামু!”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিন সরকারও শুক্রবার গণমাধ্যমে বহিষ্কারের বিষয়টি স্বীকার করলেও এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “ওই দুই ছাত্রীকে স্কুলের সময় বাইরে থাকার একাধিক অভিযোগ আগেও ছিল। ভিডিও’র পর তাদের সর্তক করে বলা হয়েছে- আগামীতে এমন করলে টিসি দেওয়া হবে। টিসি দেওয়া হয়নি।”





































