জুলাই অভ্যুত্থানের লক্ষ্য এখনো অপূর্ণ: বাসদের সভায় বক্তারা
ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান উভয় সংগ্রামের মূল লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পরও মব জাস্টিস, ভিন্নমতের ওপর হামলা, নারী নির্যাতন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং চাঁদাবাজি-লুটপাট বন্ধ হয়নি।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল ৪টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে এ আলোচনা সভা ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
বাসদ জেলা শাখার আহ্বায়ক কমরেড নিখিল দাসের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আবু নাঈম খান বিপ্লবের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ।
বক্তারা বলেন, “হাজারো মানুষের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই অভ্যুত্থান ব্যর্থ হতে পারে না। শাসকগোষ্ঠী যতই শক্তিশালী হোক, জনগণের ঐক্যের কাছে তাদের পরাজিত হতেই হয়।”
আলোচনা সভায় রফিউর রাব্বি বলেন, “৭১-এর মতো ২৪-এর অর্জনও বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী নিজেদের করে নেওয়ার চেষ্টা করছে। অথচ এই আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছেন শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।”
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর উগ্রবাদী গোষ্ঠীর তৎপরতা বেড়েছে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে নিখিল দাস অভিযোগ করেন, অভ্যুত্থানের পরও দেশে সহিংসতা ও দমন-পীড়ন বন্ধ হয়নি। তিনি বলেন, “মাজার ভাঙচুর, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা, নারীদের চলাফেরা ও খেলাধুলায় প্রতিবন্ধকতা এসব ঘটনা উদ্বেগজনক। শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলন দমনে বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক কিছু আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি দেশের কৃষি ও শিল্পের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সিপিবি নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি শিবনাথ চক্রবর্তী, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস, বাংলাদেশ জাসদ জেলা সভাপতি সোলেমান দেওয়ান এবং গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের নেতা সেলিম মাহমুদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।
বক্তারা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।





































