০৩ আগস্ট ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২২:৪৩, ২ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ২৩:১০, ২ আগস্ট ২০২৬

পারিবারিক বিরোধে জামাতাকে ‘ছাত্রলীগ কর্মী’ সাজিয়ে পুলিশে হস্তান্তর

পারিবারিক বিরোধে জামাতাকে ‘ছাত্রলীগ কর্মী’ সাজিয়ে পুলিশে হস্তান্তর

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পারিবারিক অমতে বিয়ে করায় মেয়ের স্বামীকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে চিহ্নিত করে মারধর ও পরে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করানোর অভিযোগ উঠেছে কুতুবপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান ওরফে মনার বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মনা দাবি করেছেন, গ্রেপ্তার হওয়া দুই যুবক ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

গ্রেপ্তার দুই যুবক হলেন শাহরিয়ার সোহান শিমুল (২১) ও তার বড় ভাই মো. শফিকুল ইসলাম শুভ (২৮)। পুলিশ তাদের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে। এরমধ্যে শুভ'র বিরুদ্ধে অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলেও শিমুল শ্বশুরের আক্রোশের শিকার বলে দাবি করেছে এলাকাবাসী ও পরিবার। 

শিমুলের স্ত্রী মুশফিকা হাসান নৈতী গণমাধ্যমকে বলেন, প্রায় চার মাস আগে পরিবারের অমত সত্ত্বেও তিনি পাশের এলাকার শাহরিয়ার সোহান শিমুলকে বিয়ে করে সংসার শুরু করেন। এরপর থেকেই তার পরিবার তাদের সম্পর্ক মেনে নেয়নি।

নৈতীর অভিযোগ, গত শনিবার তার বাবা কামরুল হাসান মনা রাস্তায় একা পেয়ে শিমুলকে প্রথমে চোর আখ্যা দিয়ে মারধর করেন। পরে পুলিশের সহযোগিতায় ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে একটি মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করান। তিনি দাবি করেন, এর আগেও তার বাবা তাদের ক্ষতি করার হুমকি দিয়েছেন এবং সেই কল রেকর্ড তার কাছে রয়েছে।

নৈতী আরও বলেন, “আমি নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করেছি। আমাকে কেউ জোর করেনি। কিন্তু আমার পরিবার এই বিয়ে মেনে নেয়নি। তারা আমাকে বাড়িতে নিয়ে নির্যাতনও করেছে। এখন আমার স্বামী ও তার ভাইকে মিথ্যা মামলায় জেলে পাঠানো হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

অন্যদিকে, কামরুল হাসান মনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “শিমুল আর তার ভাই ছাত্রলীগ করে। তারা মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এলাকার লোকজন ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। এখানে আমার কোনো ভূমিকা নেই। আর শিমুল আমার মেয়ের স্বামী নয়, আমার মেয়ের এখনো বিয়ে হয়নি।”

এদিকে, ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, “কে কী অভিযোগ করলো, তা নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। আমাদের কাছে মনে হয়েছে তারা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। কারণ আদালতে পাঠানোর পরও তারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়েছেন। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।”

উল্লেখ্য এর আগে, গত ২৭ মে কামরুল হাসান মনা তার মেয়েকে অপহরণের অভিযোগে শাহরিয়ার সোহান শিমুল, মো. শফিকুল ইসলাম শুভসহ চারজনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছিলেন। 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়